বৃহস্পতিবার ৪১তম জন্মদিন পালন করছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। চল্লিশের চৌকাঠ ছুঁয়েও দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন আল নাসের অধিনায়ক। এখনও তাঁর গোল করা থেকে গোলের পর তাঁর নিত্যনতুন উচ্ছ্বাসের ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সমাজমাধ্যমে। এই বিশ্বখ্যাত পর্তুগিজ ফুটবলারের অনুরাগী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে টলিপাড়াতেও। তাঁদের মধ্যে অন্যতম দুই অন্যতম অনুরাগী হলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ঋষভ বসু এবং অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। অনুরাগী তবে ভক্ত নন। কারণ ঋষভ হলেন মেসিভক্ত, অন্যদিকে আজও থিয়োরি অঁরি বলতে পাগল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এক্স ইকুয়ালস টু প্রেম’-ছবির নায়ক। কিন্তু সিআরসেভেন-এর জন্মদিনে তাঁর প্রতি নিজেদের উচ্ছ্বাস, অনুরাগ দেখতে এতটুকুও কার্পণ্য বোধ করেননি এই দুই ফুটবলপ্রেমী নায়ক।
এইমুহূর্তে শান্তিনিকেতনে রয়েছেন ঋষভ। সেখান থেকেই ফোনে আজকাল ডট ইন-কে তিনি বললেন, “দেখুন, ফুটবল আমার প্রথম প্রেম। এখনও সময় সুযোগ প্লেই মাঠে নেমে পড়ি। প্রথমেই সোজাসাপটা বলে নেওয়া ভাল, ফুটবলের গুরু আমি মানি দু'জনকে - ব্রাজিলের রোনাল্ডো এবং দিয়েগো মারাদোনা। আর আমাদের প্রজন্মে ক্রিশ্চিয়ানো নয়, আমার পাল্লা ভারী মেসি-র দিকে। তবু ফুটবলপ্রেমী হিসেবে সিআরসেভেন-এর মায়া কাটাই কীভাবে? কী করে ওঁর ফুটবল-ম্যাজিকের কথা অস্বীকার করি? এখন রোনাল্ডোর বয়স ৪১। ফুটবলের মতো এরকম হার্ডকোর ফিজিক্যাল খেলা এই বয়সেও কী দুরন্তভাবেই না খেলছেন রোনাল্ডো। আর তেমনই ওঁর দেহসৌষ্ঠব! প্রতিটি পেশীর দিকে অবাক হয়ে দেখতে হয়। 'হোয়েন হার্ড ওয়ার্ক বিটস ট্যালেন্ট উচ্ছ্বাস অ্যান্ড ট্যালেন্ট ডাজ নট ওয়ার্ক হার্ড' -এর আদর্শ উদাহরণ রোনাল্ডো। আমার তো মনে হয় রোনাল্ডোর এই যে নিয়মানুবর্তিতা জীবনের প্রতি, নিজের পেশার প্রতি সঙ্গে সেরা হওয়ার আকুতি -এটা তো প্রতিটি মানুষের শেখা উচিত। তা তিনি যে পেশাতেই থাকুন না কেন! আমিও সেটাই শেখার চেষ্টা করি।”

অন্যদিকে, বড়পর্দা-ছোটপর্দার পাশাপাশি এইমুহূর্তে আইপিএল টুর্নামেন্টের বাংলাবাংলা ধারাভাষ্যকার মানেই টলিপাড়ার অনিন্দ্য সেনগুপ্ত। তবে ক্রিকেট থেকে ফুটবলের প্রতি বেশি উত্তেজনা তাঁর। অভিনয়ের পাশাপাশি আজও সুযোগ পেলেই ফুটবল মাঠে নেমে যান অনিন্দ্য। আদ্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমী বলতে যা বোঝায়। মেজাজে আজকাল ডট ইন-কে তিনি জানালেন, তিনি যখন ফুটবল খেলা দেখতে শুরু করেছেন তখনও মেসি-রোনাল্ডো কারওরই আবির্ভাব হয়নি আন্তর্জাতিক ফুটবলে। সেই সময় থেকেই তিনি আর্সেনাল ক্লাবের অন্ধ সমর্থক। আজও সেই নিয়ম বহাল। জানালেন, তাঁর প্রিয় ফুটবলারের নাম থিয়োরি অঁরি। তবে আর্সেনালের পাশাপাশি ইউরোপে তাঁর দ্বিতীয় পছন্দের ফুটবল ক্লাবের নাম রিয়াল মাদ্রিদ। তাই রোনাল্ডোর প্রতি খানিক ভাললাগা তো আছেই।

অভিনেতার কথায়, “বিশেষ করে মনে পড়ে ২০১৩-১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালের কথা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ভার্সেস রিয়্যাল মাদ্রিদের হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। ব়্যামোসের করা গোলের পর-ই ম্যাচ এক্সট্রা টাইমে গড়ায়। তারপর গোল করে মাদ্রিদের মার্সেলো এবং রোনাল্ডো! অনবদ্য ছিল সেই গোল!”

আরও বললেন, “আর খেলাকে এক ধরনের শিল্প হিসেবেই ধরি আমি। মেসি, রোনাল্ডো এরা ওয়ার্ল্ড ক্লাস এলিট অ্যাথলিট। ওই পর্যায়ে এত বছর ধরে টিকে থাকা, শাসন করার জন্য যে সেল্ফ মোটিভেশন প্রয়োজন তা ভাবা যায় না। সেটা কিন্তু শেখার। এই যে পরিশ্রম করা এবং সেটাকে গ্ল্যামারাইজড করা, সেটা কিন্তু রোনাল্ডো শিখিয়েছে এবং দেখিয়েছে তো বটেই! তার মানে এই নয় যে অকারণে শুধু পরিশ্রম করো। যেটা ভালবাসো যদি তার সঙ্গে থাকতে চাও তাহলে সেটার জন্য পরিশ্রম করো। নিজের সেরা অবতার তৈরি করার দায় নিজের কাঁধেই নাও - রোনাল্ডোর এই ব্যাপারটা না ভালবেসে পারা যায় না।”
