ক্রিস্টোফার নোলানের পরবর্তী মহাকাব্যিক প্রজেক্ট ‘দ্য ওডিসি’ ঘিরে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় বইছে। ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড এবং অ্যানে হ্যাথাওয়ে অভিনীত এই ছবির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পরই ইতিহাস বনাম আধুনিক ব্লকবাস্টারের লড়াই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুঙ্গে।

 

 

ক্রিস্টোফার নোলান মানেই পর্দায় এক অদ্ভুত জাদু। কিন্তু তাঁর আসন্ন ছবি ‘দ্য ওডিসি’-র লেটেস্ট ট্রেলার সেই জাদুকে ছাপিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রাচীন গ্রিসের প্রেক্ষাপটে তৈরি এই মহাকাব্যিক ছবিতে ম্যাট ডেমন, টম হল্যান্ড এবং অ্যান হ্যাথাওয়ের মুখে আধুনিক আমেরিকান উচ্চারণ বা ‘আমেরিকান অ্যাকসেন্ট’ শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ভক্তদের একাংশ।

 

 

“লেট’স গো!”: মহাকাব্য না কি সুপারহিরোর ছবি?

 

ট্রেলারের একটি বিশেষ দৃশ্যে দেখা যায়, ওডিসিউস (ম্যাট ডেমন) যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে চিৎকার করে বলছেন, “লেট’স গো!”!”। এই আধুনিক সংলাপ শুনে অনেক সমালোচক ছবিটিকে ইতিহাসের বদলে ‘সুপারহিরো মুভি’র সঙ্গে তুলনা করছেন। দর্শকদের দাবি, মহাকাব্যের একটি পবিত্র বিষয়কে আধুনিকায়নের নামে নষ্ট করা হয়েছে।

 

 

২. ব্রিটিশ অ্যাকসেন্ট বনাম আমেরিকান বিতর্ক

সাধারণত হলিউডের ঐতিহাসিক বা ফ্যান্টাসি ছবিতে (যেমন: লর্ড অফ দ্য রিংস) ব্রিটিশ উচ্চারণ শুনতে দর্শক অভ্যস্ত। যদিও প্রাচীন গ্রিসের সঙ্গে ব্রিটেনের কোনো সম্পর্ক নেই, তবুও সিনেমার ঐতিহ্যের কারণেই দর্শকরা পিরিয়ড ড্রামায় ব্রিটিশ টান আশা করেন। সেখানে নোলানের ছবিতে আমেরিকান উচ্চারণ অনেক ভক্তের কাছেই ‘অস্বাভাবিক’ মনে হয়েছে।

 

৩. বর্ম ও ঢাল: গেম অফ থ্রোনস-এর ছায়া?

ইতিহাসবিদদের মতে, ট্রেলারে প্রদর্শিত বর্ম, অস্ত্র এবং ঢালগুলি প্রাচীন গ্রিসের ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শনের চেয়ে অনেক আলাদা। ছবিটির নান্দনিকতা দেখে মনে হচ্ছে এটি প্রাচীন গ্রিসের চেয়েও ‘গেম অফ থ্রোনস’ বা ‘ডার্ক সোলস’ গেমের জগত থেকে বেশি অনুপ্রাণিত। গ্রিসের সেই উজ্জ্বল ও বর্ণিল ইতিহাসের বদলে নোলান বেছে নিয়েছেন ধূসর রূপ।

 

 

সমালোচকরা মনে করছেন, নোলান হয়তো ইচ্ছাকৃতভাবেই ইতিহাসকে সমকালীন লেন্স দিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কাছে ‘দ্য ওডিসি’ স্রেফ একটি ইতিহাসের পাঠ নয়, বরং একটি আধুনিক ব্লকব্লাস্টার ‘স্পেক্ট্যাকল’। সিনেমার প্রচলিত রীতি ভেঙে নোলান কি পারবেন বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করতে? উত্তর মিলবে বড় পর্দায়।