বরাবরই কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতন চিত্রাঙ্গদা সিং। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি হোক কিংবা ভিন্ন স্বাদের গল্প, নিজেকে আগাগোড়া প্রমাণ করেছেন অভিনেত্রী। ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’-এ সলমন খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। যদিও ছবির প্রথম ঝলকে এখনও তাঁর দেখা পায়নি দর্শক, তবু এই বিগ বাজেট ছবিকে ঘিরে ইদানীং চর্চায় রয়েছেন অভিনেত্রী। আর এরই মধ্যে এবার পর্দায় স্মিতা পাটিলের চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি অভিনেত্রী স্মিতা পাটিলকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন চিত্রাঙ্গদা। বহুদিন ধরেই তাঁকে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই প্রসঙ্গ উঠতেই চিত্রাঙ্গদা জানান, এমন তুলনা তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের। শুধু তাই নয়, সুযোগ পেলে তিনি স্মিতা পাটিলের বায়োপিক ছবিতে অভিনয় করতেও আগ্রহী।
চিত্রাঙ্গদার কথায়, স্মিতা পাটিল এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি খুব কম সময়ের মধ্যেই ভারতীয় সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। তাঁর অভিনয়ের গভীরতা, চোখের ভাষা আর স্বাভাবিক অভিব্যক্তি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। চিত্রাঙ্গদার মতে, স্মিতা পাটিলের মতো অভিনেত্রীকে পর্দায় তুলে ধরা মানে শুধু অভিনয় নয়, বরং এক বিশাল দায়িত্ব নেওয়া।
চিত্রাঙ্গদা আরও জানান, অনেক সময় ভক্তরা তাঁকে বলেছেন যে তাঁর চেহারা, চোখ বা অভিনয়ের ধরন স্মিতা পাটিলের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনকী একটি মজার ঘটনাও শেয়ার করেন তিনি। একবার স্মিতা পাটিলের ছেলে প্রতীকও নাকি চিত্রাঙ্গদার একটি ছবি দেখে ভেবেছিলেন সেটি তাঁর মায়েরই ছবি। পরে ভুল বুঝতে পেরে তিনিও অবাক হন। এই ঘটনা চিত্রাঙ্গদার কাছে খুবই আবেগের।
অভিনেত্রীর সংযোজন, স্মিতা পাটিল এমন এক সময়ের অভিনেত্রী ছিলেন, যখন সিনেমা মানেই ছিল বাস্তব গল্প আর জোরদার চরিত্র। তিনি কখনও গ্ল্যামারের পিছনে ছোটেননি, বরং নিজের অভিনয় দিয়েই দর্শকের মন জয় করেছিলেন। তাই তাঁর জীবনীচিত্র তৈরি হলে সেটি খুব সংবেদনশীলভাবে এবং সম্মানের সঙ্গে করা দরকার বলে মনে করেন চিত্রাঙ্গদা।
নিজের কেরিয়ার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিত্রাঙ্গদা জানান, তিনি সব সময়ই পর্দায় কম হলেও অর্থপূর্ণ কাজ করতে চেয়েছেন। ‘হাজারো খোয়াইশে অ্যায়সি’ দিয়ে তাঁর যাত্রা শুরু, এরপর একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, ভাল অভিনয় সময়ের সঙ্গে আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে।
বর্তমানে চিত্রাঙ্গদা সিং একাধিক নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত। পাশাপাশি স্মিতা পটলের বায়োপিক নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে বিনোদন মহলে। দর্শকদের একাংশও চাইছেন, যদি কখনও এমন ছবি তৈরি হয়, তাহলে চিত্রাঙ্গদাকেই যেন সেই চরিত্রে দেখা যায়!
