সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেত্রী নিধি আগরওয়াল ও সামান্থা রুথ প্রভুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেলিব্রিটি ‘মবিং’-এর ঘটনাগুলি ঘিরে যখন প্রশ্ন উঠছে তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে, ঠিক তখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন চিত্রাঙ্গদা সিং। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল আতঙ্ক, অব্যবস্থা এবং এক পুরনো অভিজ্ঞতার অস্বস্তিকর স্মৃতি।
বরাবরই কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সচেতন চিত্রাঙ্গদা সিং। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবি হোক কিংবা ভিন্ন স্বাদের গল্প, নিজেকে আগাগোড়া প্রমাণ করেছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চিত্রাঙ্গদা জানান, এই ধরনের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখেই তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “নিধির সঙ্গে যেটা হয়েছে, সেই ভিডিয়োটা দেখে সত্যিই ভয় পেয়েছিলাম। ওঁদের যাঁরা ম্যানেজ করেন, নিরাপত্তার দায়িত্ব যাঁদের, এটা তো তাঁদেরই দেখার কথা। কিন্তু ওই দৃশ্যটা ছিল ভয়ানক। আমি বুঝতেই পারিনি, কীভাবে ওঁদের ওই পরিস্থিতির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হল। এটা কীভাবে ঘটতে পারে?”
চিত্রাঙ্গদার মতে, জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বও বেড়ে যায়, বিশেষ করে তারকাদের ঘিরে ভিড় সামলানোর ক্ষেত্রে। কিন্তু বাস্তবে সেই দায়িত্ব পালন কতটা হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী।
এই প্রসঙ্গেই বহু বছর আগের এক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন চিত্রাঙ্গদা। জন আব্রাহামের সঙ্গে তাঁদের ছবি ‘আই, মি অউর মাইসেল্ফ’-এর প্রচারে দিল্লির একটি কলেজে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে নাড়া দেয়। সেই স্মৃতি ফিরে আসলেই রীতিমতো শিউরে ওঠেন তিনি। চিত্রাঙ্গদা জানান, “আমরা মঞ্চে উঠেছিলাম, অনুষ্ঠান সেরে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।”
সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মুহূর্ত আসে, যখন কোনওরকমে তাঁরা গাড়িতে উঠতে সক্ষম হন। অভিনেত্রীর কথায়, “গাড়িতে বসেই জন নিজের শার্ট খুলে ফেলেছিল। দেখলাম, ওর পুরো পিঠ জুড়ে আঁচড়ের দাগ। আমি কিছুই বুঝতে পারিনি তখন। আমার কিছু হয়নি, কারণ কলেজটায় মেয়েদের সংখ্যাই বেশি ছিল।”
কেন জনের এমন অবস্থা হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যাও দেন চিত্রাঙ্গদা। তাঁর কথায়, “ও আমাকে আগলে রাখছিল। আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল বলেই ওর পিঠে সব আঁচড় লেগেছে। সেটা দেখে আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।”
এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই চিত্রাঙ্গদা স্পষ্ট করে দেন, নিরাপত্তার ঝুঁকি শুধুমাত্র মহিলা তারকাদের ক্ষেত্রেই নয়। তাঁর মতে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে যে কোনও তারকাই বিপদের মুখে পড়তে পারেন। আর সেই কারণেই সেলিব্রিটি মবিংকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও জায়গা নেই। এটা নিছক উন্মাদনা নয়, বরং একটি গুরুতর নিরাপত্তা ইস্যু।
অন্যদিকে, ‘ব্যাটেল অফ গালওয়ান’-এ সলমন খানের বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। যদিও ছবির প্রথম ঝলকে এখনও তাঁর দেখা পায়নি দর্শক, তবু এই বিগ বাজেট ছবিকে ঘিরে ইদানীং চর্চায় রয়েছেন অভিনেত্রী। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পর্দায় স্মিতা পাটিলের চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছাপ্রকাশও করেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি অভিনেত্রী স্মিতা পাটিলকে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন চিত্রাঙ্গদা। বহুদিন ধরেই তাঁকে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই প্রসঙ্গ উঠতেই চিত্রাঙ্গদা জানান, এমন তুলনা তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের। শুধু তাই নয়, সুযোগ পেলে তিনি স্মিতা পাটিলের বায়োপিক ছবিতে অভিনয় করতেও আগ্রহী।চিত্রাঙ্গদার কথায়, স্মিতা পাটিল এমন একজন অভিনেত্রী, যিনি খুব কম সময়ের মধ্যেই ভারতীয় সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। তাঁর অভিনয়ের গভীরতা, চোখের ভাষা আর স্বাভাবিক অভিব্যক্তি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে আছে। চিত্রাঙ্গদার মতে, স্মিতা পাটিলের মতো অভিনেত্রীকে পর্দায় তুলে ধরা মানে শুধু অভিনয় নয়, বরং এক বিশাল দায়িত্ব নেওয়া।চিত্রাঙ্গদা আরও জানান, অনেক সময় ভক্তরা তাঁকে বলেছেন যে তাঁর চেহারা, চোখ বা অভিনয়ের ধরন স্মিতা পাটিলের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনকী একটি মজার ঘটনাও শেয়ার করেন তিনি। একবার স্মিতা পাটিলের ছেলে প্রতীকও নাকি চিত্রাঙ্গদার একটি ছবি দেখে ভেবেছিলেন সেটি তাঁর মায়েরই ছবি। পরে ভুল বুঝতে পেরে তিনিও অবাক হন।
