'চিরসখা' ধারাবাহিকে বর্তমানে দেখানো হচ্ছে কমলিনী এবং স্বতন্ত্রর মাঝে বারংবার ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিমান পাহাড় জমছে স্বতন্ত্রর মনে আর এসবের মাঝেই এন্ট্রি নিল নতুন চরিত্র। কমলিনী এবং স্বতন্ত্রর মাঝে প্রবেশ তৃতীয় ব্যক্তির, কী ঘটবে এবার 'চিরসখা'য়?
সদ্যই 'চিরসখা' ধারাবাহিকের নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সেখানেই দেখা যাচ্ছে ঝড়ের মুখে কমলিনীর সংসার। তৃতীয় ব্যক্তির আগমনে কি তার সুখের সংসার ভেঙে পড়বে? তেমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। যাজ্ঞসেনী নামক এক চরিত্রের এন্ট্রি হয়েছে। তার সঙ্গে স্বতন্ত্রর বুদ্ধিমত্তা, ইত্যাদির বেশ মিল রয়েছে। পড়াশোনা, বইপত্র নিয়ে দুজনের বেশ কথা হয়। এমনকী স্বতন্ত্র জানায়, বহুদিন পর এমন সমমনস্ক কারও সঙ্গে কথা বলে তার ভাল লাগছে। আর সেই সময়ই ঘরে ঢোকে কমলিনী। এসেই স্বামীকে বিদ্রুপ করে কথা বলে। বলে, তার এত বুদ্ধি নেই, তাও তাদের কথার মাঝে সে ঘরে থাকলে অসুবিধা নেই তো? তবে কি এই তৃতীয় ব্যক্তির কারণেই সম্পর্কে ফাটল ধরবে কমলিনী এবং স্বতন্ত্রর? উত্তর আগামী পর্বেই পাওয়া যাবে।
বর্তমানে এই ধারাবাহিকের গল্পে দেখানো হচ্ছে বাড়ির সকলের সামনে বাকবিতণ্ডা চলছে কমলিনী এবং স্বতন্ত্রর। কমলিনী বরকে উদ্দেশ্য করে বলে তাকে সকলে চিরকাল একই রকম দেখে এসেছে। আর তার থেকে একটু এদিক ওদিক হলেই ভাবে সবটা রসাতলে গেল। স্বতন্ত্র যদি এখন বাকিদের মতো করে তাকে ভাবে বা বোঝে তাহলে তার বাঁচার কোনও মানে নেই বলেই জানিয়ে দেয় কমলিনী। স্বতন্ত্রও এই কথার পাল্টা জবাব দেয়। জানায় কমলিনী নিজেও খুব ভাল ভাবে জানে যে সে স্বতন্ত্রকে ব্যক্তিগত জীবনে মেনে নিতে পারেনি। এই কথায় অবাক হয়ে প্রথমে নায়িকা। তারপর বলে, ব্যক্তিগত জীবনে মেনে নেওয়ার অর্থ কি কেবল শারীরিক সম্পর্ক হওয়া? মন থেকে মেনে নেওয়া নয়? জবাবে স্বতন্ত্র বলে, কেবল শারীরিক সম্পর্ক যেমন মেনে নেওয়ার অর্থ নয়, তেমনই কেবল মন থেকে মেনে নেওয়াও ব্যক্তিগত জীবনে স্থান দেওয়া নয়।
বিগত কয়েক দিনে এই ধারাবাহিকে যা চলছে তাতে স্পষ্ট যে স্বতন্ত্রর অভিমান হয়েছে, তার মতে কমলিনীর জীবনে একমাত্র জায়গা রয়েছে তার তিন ছেলে মেয়ের। আর কারও না। এই বিষয়ে সম্প্রতি একটি প্রোমোতে দেখানো হয়েছে মুখোমুখি বসে রয়েছে স্বতন্ত্র এবং কমলিনী। নায়ক স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলছে, যে তার অনুমান কমলিনী তাকে বিয়ে করে খুশি নয়। এমনকী তাঁদের বিয়েটা নিয়েও তার মধ্যে কোথাও যেন অপরাধবোধ কাজ করে। কিন্তু কেন এমন মনে হয় স্বতন্ত্রর? সে নিজেই জানায়, সবার অমতে গিয়ে কমলিনী বিয়ে করলেও সে এটা ভুলতে পারছে না যে তার তিনটে বড় বড় ছেলেমেয়ে আছে। তাই হয়তো এখন অনুভব করছে যে বিয়ে করে ভুল করেছে। অন্য কেউ নয়, কমলিনী নিজেই এই বিয়েকে অনুমোদন করে না। স্বতন্ত্র রাগ করে এটাও জানায় যে সে একটা সময় বলতে বলতে, বলাও ছেড়ে দেবে। আর কমলিনীর থেকে কিছুই চাওয়ার থাকবে না। তখন সব ঠিকঠাক চলবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। বরের এই কথায় কোনও উত্তর দেয় না। কমলিনী কেবল চুপ করে থাকে।
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, 'চিরসখা' ধারাবাহিকটি স্টার জলসার পর্দায় রোজ দেখা যায়। এটি প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে সম্প্রচারিত হয়। মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন অপরাজিতা ঘোষ দাস এবং সুদীপ মুখোপাধ্যায়।
