দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। এই মুহূর্তে তিনি ব্যস্ত কলকাতায় তাঁর নতুন ছবি ‘আজাদি’-র শুটিংয়ে। অভিনেতা জানিয়েছেন, ছবিটি তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ছবির বিষয়বস্তু, নির্মাণ এবং তাঁর চরিত্র—সব মিলিয়েই আজাদি একটি আলাদা অভিজ্ঞতা হতে চলেছে তাঁর এবং দর্শকের কাছে।

ছবিটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন সুমন মুখোপাধ্যায়। সম্প্রতি তাঁর পরিচালিত পুতুল আঁচের ইতিকথা ছবিটি সমালোচক ও দর্শক -দুই মহলেই বিস্তর প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘আজাদি’ প্রসঙ্গে চঞ্চল বলেন, এটি মূলত দেশভাগের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এক আবেগঘন গল্প, যেখানে ব্যক্তিগত জীবন ও বৃহত্তর ইতিহাস একসঙ্গে মিশে যায়।

 


‘আজাদি’ ছবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক, এর দৃষ্টিভঙ্গি। চেনা দেশভাগের গল্পের বাইরে গিয়ে, ছবিতে তুলে ধরা হচ্ছে এক তুলনামূলক কম আলোচিত বাস্তব - কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে সরকারি কর্মীদের যাতায়াত ও স্থানান্তরের বিষয়টি।  এক কথায় ইতিহাসের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক গল্প। এই ছবিতে চঞ্চল অভিনয় করছেন সেলিমুল্লা নামে এক মুসলিম পুলিশ অফিসারের চরিত্রে। চরিত্রটি শুধু পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক টানাপোড়েনের মধ্যেও অবস্থান করছে।


অভিনেতার কথায়, ছবির শুটিং চলছে ধারাবাহিকভাবে। এমনকী, রাতভর শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তিনি জানান, গল্পটি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে, এবং সেই অনুভূতিই তাঁর অভিনীত চরিত্রকে নিজের সঙ্গে একাত্ম করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। তাঁর বিশ্বাস, এই ছবি দর্শকের মনেও একইভাবে সাড়া ফেলতে পারে।


শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেই ঈদে মুক্তি পেয়েছে চঞ্চল চৌধুরী-র একাধিক কাজ।মুক্তির তালিকায় রয়েছে—দম, বনলতা এক্সপ্রেস এবং প্রেশার কুকার। এছাড়াও, মুক্তি পাবেতাঁর অভিনীত একটি সাত পর্বের টেলিভিশন সিরিজ।‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রসঙ্গে চঞ্চল উল্লেখ করেন, এটি হুমায়ুন আহমেদ-এর লেখার উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ আগে থেকেই রয়েছে। অন্য দুটি ছবির ক্ষেত্রেও দর্শকের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাবাদী তিনি।


ঈদের আবহে বক্স অফিসের এই প্রতিযোগিতামূলক সময়ে অন্য ছবিগুলির প্রতিও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চঞ্চল। বিশেষ করে শাকিব খান-এর ‘প্রিন্স’ এবং সিয়াম আহমেদ-এর ‘রাক্ষস’ দুটি ছবির সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।ঈদের সময়ে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার পরিকল্পনাও রয়েছে অভিনেতার। একাধিক ছবি মুক্তি পাওয়ায় এই উৎসব তাঁর কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।সব মিলিয়ে, একদিকে যেমন ‘আজাদি’ ছবির মাধ্যমে নতুন এক ঐতিহাসিক গল্পের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ঈদের একাধিক মুক্তি, চঞ্চল চৌধুরী-র জন্য এই সময়টি স্পষ্টতই ব্যস্ততা ও প্রত্যাশার মিশেলে ভরা।

এখন নজর, এই দুটি ব্যাপার অর্থাৎ নতুন গল্প এবং উৎসবের বিনোদন দর্শকের মনকে কতটা ‘চঞ্চল’ করে তুলতে পারে।