বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার মামলায় এমন একাধিক অভিযোগ তুলেছেন, যা রীতিমতো স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো। ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ-সহ একাধিক আর্থিক দাবি জানিয়ে মুম্বই আদালতে দায়ের করা মামলায় সেলিনা অভিযোগ করেছেন, স্বামী তাঁকে ‘অস্বাভাবিক’ যৌনতায় বাধ্য করেছেন, তাঁর নগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল করেছেন, এমনকী অন্য পুরুষের সঙ্গে জোর করে যৌনতা করার জন্য চাপও দিয়েছেন। স্বামী পিটার হাগের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসা, মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করার পর এবার এক আবেগঘন বার্তায় নিজের তিন সন্তানের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার যন্ত্রণার কথা প্রকাশ্যে আনলেন সেলিনা।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বইয়ের আন্ধেরির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস আদালতে পিটার হাগের বিরুদ্ধে মামলা করেন সেলিনা। সেই মামলায় তিনি ৫০ কোটি টাকা ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এবার ইনস্টাগ্রামে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে অভিনেত্রী দাবি করেছেন, বর্তমানে তাঁকে তাঁর তিন সন্তানের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং শিশুদের বিরুদ্ধে তাঁর বিরুদ্ধেই ‘ব্রেনওয়াশ’ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে তিন সন্তানের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে সেলিনা লেখেন, “২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর রাত ১টায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় আমি অস্ট্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হই। আমি যাকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত দমন ও নির্যাতন বলে অনুভব করেছি, সেখান থেকে পালিয়ে ভারতে ফিরতে হয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাত্র সামান্য টাকা নিয়ে, জীবনের বাকি লড়াই লড়ার জন্য।”
তিনি আরও জানান, ভারতে ফিরে নিজেরই বাড়িতে ঢোকার অধিকার পেতেও তাঁকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। ওই সম্পত্তিটি তিনি ২০০৪ সালে কিনেছিলেন, বিয়ের বহু আগে। অথচ সেই বাড়ির উপরও এখন স্বামী দাবি করছেন বলে অভিযোগ। এই আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে তাঁকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতেও হয়েছে।
সবচেয়ে যন্ত্রণার জায়গা হিসেবে সেলিনা লেখেন, “অস্ট্রিয়ান ফ্যামিলি কোর্টের যৌথ হেফাজতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে আমার তিন সন্তানের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমার সন্তানদের আমার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বয়ানের মাধ্যমে তাদের প্রভাবিত করা হচ্ছে, এমনকী আমাকে নিয়ে মিথ্যে কথা বলতে ভয় দেখানো হচ্ছে। আমি একজন মা, যিনি জন্মের দিন থেকে সন্তানদের আগলে রেখেছেন, এক দেশ থেকে আরেক দেশে গিয়েছেন শুধুমাত্র তাঁদের বাবার কেরিয়ারকে সমর্থন করার জন্য।”
সেলিনা আরও জানান, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাঁর ১৫তম বিবাহবার্ষিকীতে তাঁকে প্রতারণার মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, “একটি উপহারের অজুহাতে আমাকে স্থানীয় পোস্ট অফিসে নিয়ে গিয়ে ডিভোর্স নোটিস দেওয়া হয়।”এরপর তিনি শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ। বরং তাঁর বিয়ের আগের সম্পত্তি নিয়ে দাবি করা হয় এবং এমন সব শর্ত চাপানো হয়, যা তাঁর স্বাধীনতা ও সম্মান কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা বলে তিনি দাবি করেছেন।
পোস্টের শেষাংশে সেলিনা লেখেন, “আমার পেশাগত পরিচয় ও সাফল্যকে মূল্যহীন বলা হয়। আমাকে বলা হয়, অস্ট্রিয়ার ছোট গ্রামে সুপারমার্কেট বা জমাদারের কাজ করলে তবেই সন্তানদের যৌথ হেফাজত পাব। আমি প্রশ্ন করি, নিজের দেশে নিজের শর্তে সফলভাবে জীবন গড়তে পারলে, কেন আমাকে আমার সন্তানদের থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?”
বর্তমানে আইনি জটিলতা, আর্থিক চাপ ও ব্যবস্থাগত অসাম্যের কারণে তিনি সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন বলেই দাবি করেছেন অভিনেত্রী।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে অস্ট্রিয়ান ব্যবসায়ী ও হোটেল মালিক পিটার হাগকে বিয়ে করেন সেলিনা জেটলি। তাঁদের তিন পুত্রসন্তান-যমজ উইনস্টন ও বিরাজ (জন্ম ২০১২) এবং আর্থার (জন্ম ২০১৭)। তাঁদের আর এক সন্তান শমশের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়।
সেলিনার এই পোস্ট সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক দাম্পত্য বিবাদ, সন্তানের হেফাজত এবং একজন মায়ের অধিকারের প্রশ্ন।
