সিনেমার প্রিমিয়ারের লাল গালিচা, ফ্ল্যাশের মুহুর্মুহু ঝলকানি, বিলাসবহুল গাড়ির সারি—এ সবই স্বাভাবিক দৃশ্য। কিন্তু সেই চেনা ছবিটাই বদলে দিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। নিজের ছবি প্রোমোটার বৌদি র স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে তিনি পৌঁছলেন মেট্রো চেপে, সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে সেই অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়েছেন স্বস্তিকা। অভিনেত্রী জানালেন, ছবির প্রিমিয়ারে তিনি সাধারণত যান না। কারণ হিসেবে আগেই জানিয়েছিলেন, যেহেতু ছবির টিমের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না অনেক সময়। তবে ‘প্রোমোটার বৌদি’র স্পেশাল স্ক্রিনিং ছিল আলাদা। পরিচালক শৌর্য  দেব নাকি ছবির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তাই এই বিশেষ সন্ধ্যায় উপস্থিত থাকা স্বস্তিকার কাছে জরুরি ছিল।

আর সেই যাওয়াটাকেই বানালেন নিজের মতো করে। গন্তব্য ছিল গ্লোব সিনেমা। ছোটবেলার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই প্রেক্ষাগৃহ, যেখানে মায়ের হাত ধরে প্রথম ইংরেজি ছবি দেখেছিলেন। বাসে করে যাওয়া, পরে মেট্রো ধরে ‘বেন হুর’, ‘দ্য টেন কম্যান্ডমেন্টস’, ‘ম্যাকেনাস গোল্ড’-এর মতো বিশাল ক্যানভাসের সব বিখ্যাত হলিউড ছবি দেখা—এক লহমায় সব ফিরে এল অভিনেত্রীর মনে।

তাই স্বস্তিকা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, এবারও গ্লোবে যাবেন মেট্রো করেই। টিমের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি মজা করছেন। “হিরোইন তুমি!”, “এত সেজেগুজে!”, “সন্ধেবেলা মেট্রোতে ভিড় হবে”, এক এক করে সব আপত্তিই উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বস্তিকার পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট। বাড়ি থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত উবের, তারপর মেট্রো, শেষে এসপ্ল্যানেড থেকে পায়ে হেঁটে গ্লোব।

শুরু হল সফর। আর সেই সফরেই যেন অন্যরকম আনন্দ খুঁজে পেলেন অভিনেত্রী। গ্লোব পৌঁছে অনেকে প্রশ্ন করেছেন, “শেষ কবে মেট্রো চড়েছিলেন?” তাঁর জবাব ছিল স্পষ্ট, “এক মাস আগেই”।

প্রিমিয়ারের আগে নিউ মার্কেটের ভিড়ে মিশে শিকাঞ্জি খাওয়া, ফালুদা দেওয়া কুলফি—সব মিলিয়ে স্বস্তিকার কাছে এই সন্ধেটা হয়ে উঠেছিল স্মৃতি আর বর্তমানের মোন্তাজ। স্বস্তিকার কথায়, “না বললেই সেটাকে হ্যাঁ করার অদম্য ইচ্ছে” এই স্বভাবটাই তাঁকে আলাদা করে। তারকাসুলভ দূরত্ব নয়, বরং শহরের ভিড়েই নিজের জায়গা খুঁজে নেওয়া, এ যেন এক অন্যরকম অবস্থান।

‘প্রোমোটার বৌদি’ এখন প্রেক্ষাগৃহে চলছে। কিন্তু ছবির আগে যে গল্পটা শহরের রাস্তায় লেখা হল, তা হয়তো আরও দীর্ঘস্থায়ী—একজন অভিনেত্রীর, যিনি আলো-আড়ালের মাঝেও নিজের ছন্দে চলতে জানেন।