কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চাইছে কিছু এজেন্সি! সমাজমাধ্যমে এদিন এই বিষয়ে বিস্ফোরক দাবি করে বসলেন টলিউডের জনপ্রিয় কাস্টিং ডিরেক্টর অনিমেষ বাপুলি। 

অনিমেষ এদিন সমাজমাধ্যমে নিজের কাজের ধরন তুলে ধরে জানান, 'কাস্টিং বিক্রি হয় না… কাস্টিং অর্জন করতে হয়। আজকে খুব স্পষ্ট করে কিছু কথা বলতে চাই। সার্থক মল্লিক—একজন ট্যালেন্টেড চাইল্ড আর্টিস্ট, যার সঙ্গে আমার আগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্লুজ প্রোডাকশন থেকে যখন আমাকে একটি বাচ্চা ছেলের চরিত্রের জন্য অপশন চাওয়া হয়, আমি সম্পূর্ণ বিশ্বাস আর দায়িত্ব নিয়ে সার্থকের প্রোফাইল পাঠাই। এবং সে নিজের যোগ্যতায় সিলেক্ট হয় পরশুরাম -এর মতো একটি জনপ্রিয় প্রজেক্টে।' তাঁর আরও সংযোজন, 'এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিই— আমি ২০১৯-২০ সালের পর থেকে নিয়মিত সিরিয়াল কাস্টিং করি না। তবে ইন্ডাস্ট্রির কিছু পরিচিত প্রোডাকশন হাউস যখন হেল্প চায়, আমি সেটাকে শুধুই হেল্প হিসেবেই দেখি। না প্রোডাকশন হাউস থেকে কোনো টাকা নিই, না আর্টিস্ট বা তাদের পরিবারের কাছ থেকে এক টাকাও নিই। এটাই আমার কাজের নীতি।' 

এরপর তিনি সেই সময় কাস্টিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন যাঁরা কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেয়। তাদের উদ্দেশ্যে অনিমেষ লেখেন, 'কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই ইন্ডাস্ট্রির কিছু তথাকথিত এজেন্সি আছে, যারা শুধুমাত্র সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। যেই তারা জানতে পারে কোনো আর্টিস্ট কাজ পেয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে তারা গার্ডিয়ানদের কাছে পৌঁছে যায়— মিথ্যে দাবি করে, আমরাই কাস্টিং করেছি, আর মূল উদ্দেশ্য একটাই—কমিশন নেওয়া। এটা শুধু অনৈতিক নয়, লজ্জাজনক। একজন আর্টিস্টের পরিশ্রম, একজন কাস্টিং পারসনের সততা—এসবকে এভাবে বিক্রি করার চেষ্টা সত্যিই নীচ মানসিকতার পরিচয় দেয়। হ্যাঁ, একজন আর্টিস্ট একাধিক জায়গায় প্রোফাইল পাঠাতে পারে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে কেউ সুযোগ পেলেই ক্রেডিট কেড়ে নেবে? মিথ্যে গল্প বানিয়ে টাকা আদায় করবে? এই মানসিকতা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে? আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই— কাস্টিং কোনো কমিশন গেম নয়।' (পোস্টদাতার বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হল)

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল 'পরশুরাম আজকের নায়ক' ধারাবাহিকে সার্থক মল্লিককে নায়কের ছেলের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে। এর আগে এই চরিত্রে অভিনব বিশ্বাসকে দেখা যেত। সে ছেড়ে দেওয়ার পর সার্থক জয়েন করেছে।