‘আনোয়ার’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও ইনফ্লুয়েন্সার নওহীদ সাইরুসি দীর্ঘদিন ধরে রূপোলি পর্দা থেকে দূরে রয়েছেন। কেন তিনি অভিনয় জগৎ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন, তা নিয়ে ভক্তদের মনে কৌতূহলের শেষ ছিল না। অবশেষে ৪ মে একটি খোলামেলা ভিডিওর মাধ্যমে তিনি ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কিছু কঠোর ও অপ্রিয় সত্য তুলে ধরেছেন। নওহীদ তাঁর এই অনুপস্থিতির পেছনের কারণগুলো নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন।
রূপোলি পর্দার পেছনের চাকচিক্য আর গ্ল্যামারের আড়ালে কী লুকিয়ে থাকে? পর্দার সামনের হাসিমুখের আড়ালে কতটা নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় একজন অভিনেতাকে? ‘আনোয়ার’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা বর্তমানে ইনস্টাগ্রামের ইনফ্লুয়েন্সার নওহীদ সিরুসি সম্প্রতি সেই পর্দার আড়ালেরই এক অজানা, অপ্রিয় গল্প তুলে ধরেছেন। বছরের পর বছর কেন তিনি অভিনয় জগৎ থেকে দূরে ছিলেন, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ ছিল না। অবশেষে ৪ মে, একটি খোলামেলা ভিডিওর মাধ্যমে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নওহীদ। আর তাঁর এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি নাড়িয়ে দিয়েছে বিনোদন জগৎকে।
নওহীদ তাঁর ভিডিওর শুরুতেই ইনস্টাগ্রামের একটি সরাসরি প্রশ্ন তুলে ধরেন— “আপনার কোনও নতুন সিনেমা বা শো আসছে না?” এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি ইন্ডাস্ট্রির একটি কঠোর সত্যের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, আজকালকার সিনেমার চুক্তিপত্রে এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় যা শিল্পীদের মারাত্মক অস্বস্তিতে ফেলে। চুক্তি সই করার অর্থই যেন চুম্বন বা অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য নিঃশর্ত সম্মতি দেওয়া।
নওহীদের অভিযোগ, আজকাল গল্পের প্রয়োজনে কোনও দৃশ্য না থাকলেও অকারণে চুম্বন দৃশ্য ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তিনি একদমই পছন্দ করেন না। অকপটে তিনি জানিয়েছেন যে, চুম্বন দৃশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করার কারণে অনেক সময় কাজ দেওয়ার আগেই তাঁকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিল্পীর কথায়, “তারা আমাকে কাজ দেওয়ার আগেই বাদ দিয়ে দেয়, কারণ আমি চুম্বন দৃশ্যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। অনেক সময় তারা এই দৃশ্যগুলো ঠিকভাবে শুটও করতে পারে না।”
নওহীদের বিস্ফোরক অভিযোগ শুধু অন্তরঙ্গ দৃশ্যের বাধ্যবাধকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এতে উঠে এসেছে প্রযোজকদের পারিশ্রমিক আটকে রাখার মতো গুরুতর বিষয়। তিনি জানিয়েছেন, শুটিং শেষ হওয়ার পরও অনেক প্রযোজক চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক দেন না, প্রায় ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক আটকে রাখা হয়।
টাকা চাওয়ার পর দেওয়া হয় নানা হাস্যকর ও ভিত্তিহীন অজুহাত। প্রযোজকদের কথাবার্তা অনেকটা এমন হতো— ‘আরে, ছবি তো ভাল চলেনি!’ নওহীদের সোজাসাপটা জবাব, তিনি চুক্তি অনুযায়ী নিজের কাজ ঠিকঠাক করেছেন, কিন্তু তার পারিশ্রমিক আটকে রাখার কোনও অধিকার কারও নেই। তবে এই ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার চেয়ে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেওয়াই শ্রেয় মনে করেছেন।
নিজেকে কখনওই বলিউডের প্রভাবশালী ‘ইনার সার্কেল’ বা আড্ডার গোষ্ঠীর অংশ মনে করেননি নওহীদ। তাঁর মতে, এই না-থাকার মাশুল তাঁকে নিজের কেরিয়ারের প্রতিটি ধাপে গুনতে হয়েছে। যার ফলে তাঁকে প্রায়ই ছোট ও গতানুগতিক চরিত্রের প্রস্তাব দেওয়া হতো, যা একজন পরিণত শিল্পীর কাছে অবমাননাকর। “আমি এমন কেউ ছিলাম না যে প্রযোজক-পরিচালকদের দলে ঘুরে বেড়াব। তাই আমাকে সবসময় ছোট চরিত্র, যেমন কারও বোন, কারও বৌদি — এভাবেই ভাবা হত। আমি এতে আগ্রহী ছিলাম না”, দাবি তাঁর।
সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে নওহীদ আজ ইনস্টাগ্রামে একজন সফল ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি রূপোলি পর্দার কৃত্রিম গ্ল্যামারের চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার এই সরাসরি যোগাযোগকে অনেক বেশি অর্থবহ মনে করেন। তাঁর মতে, ইনস্টাগ্রামই এখন তাঁর সত্যিকারের ঠিকানা।















