বাঙালির ভালবাসার দিনেই সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন বিশ্বাবসু বিশ্বাস ও ঐশিকী ঘটক। বিষ্ণপুরে বসেছে তাঁদের বিয়ের আসর। ঐতিহ্য আর আবেগে মোড়া এই বিশেষ মুহূর্তে রাজকীয় সাজে ধরা দিয়েছেন অভিনেতা বিশ্বাবসু। লাল পাঞ্জাবি ও ঘিয়ে ধুতি পরেছেন তিনি, তার সঙ্গে একই রঙের শাল। 

কনের সাজও সমানভাবে নজরকাড়া। লাল টুকটুকে বেনারসিতে সেজে উঠেছেন ঐশিকী। মানানসই গয়নায় সম্পূর্ণ তাঁর লুক, কপালে চন্দনের ছোঁয়া। চোখ ফেরানো সত্যিই কঠিন। রাত সাড়ে দশটায় বিয়ের লগ্ন।

বাঙালির বিয়ে মানেই ভুরিভোজ। এক্ষেত্রেও অন্যথা নয়। মেনুতে রয়েছে পমফ্রেট তন্দুর, পনির সটে, মশালা কুলচা, ডাল মাখানি, ভাত, ডাল, ঝুরি আলু ভাজা, ভেটকি পাতুরি, বাসন্তী পোলাও, মটন মশালার মতো সব খাবার। শেষ পাতে মিষ্টি মুখ হবে গরম গোলাপ জামুন এবং বাটারস্কচ সন্দেশ দিয়ে।

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’-তে ভূপাল চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রথম দর্শকের নজর কেড়েছিলেন বিশ্বাবসু। পরে তাঁকে দেখা যায় ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকেও, যদিও মাঝপথেই সেই কাজ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। অভিনয়ের সূত্রেই ঐশিকীর সঙ্গে আলাপ বিশ্বাবসুর। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করা ঐশিকী মঞ্চেই নিজের অভিনয়যাত্রা গড়ে তুলেছেন। অন্য দিকে, বিশ্বাবসুও দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। অভিনয় হোক বা পরিচালনা, সব ক্ষেত্রেই তাঁর স্বচ্ছন্দ বিচরণ। কাজের মাঝেই গড়ে ওঠা সেই বন্ধুত্বই ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমে। আর এবার সেই প্রেমের গল্প পৌঁছতে চলেছে ছাদনাতলায়।

প্রেম নিয়ে কখনওই প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি বিশ্বাবসু। বিয়ে নিয়েও ছিল একই নীরবতা। তবে এবার আর গোপন নয়। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত অভিনেতা।

বিশ্বাবসুর ইনস্টাগ্রাম ঘাঁটলেই চোখে পড়ে ঐশিকীর সঙ্গে তাঁর একাধিক মুহূর্তের ঝলক। কখনও রেস্তরাঁয় নির্ভার আড্ডা, কখনও আবার আলো-আঁধারির আবেশে ধরা দেওয়া ঘনিষ্ঠ সেলফি। লাইমলাইটের বাইরে, নিজেদের মতো করেই সময় কাটাতে ভালবাসেন তাঁরা।