বলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ায় বন্ধুত্ব যত দ্রুত তৈরি হয়, তার চেয়েও দ্রুত নাকি তা কর্পূরের মতো উড়ে যায়। আর সেই বন্ধুত্বের তালিকায় যদি জড়িয়ে থাকে  শাহিদ কাপুর এবং বলিউডের নামজাদা কোরিওগ্রাফার-পরিচালক আহমেদ খানের নাম, তবে খবর তো হবেই। চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এক চরম বাস্তব আর আবেগের বিস্ফোরণ ঘটালেন আহমেদ খান। দীর্ঘ ১০ বছরের চাপা ক্ষোভ, অভিমান আর দূরত্ব নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

শাহিদ কাপুর যখন সাফল্যের শিখরে, তখন তাঁর জীবনের একসময়ের সবচেয়ে কাছের মানুষ আহমেদ খান কেন তাঁর থেকে শত হস্ত দূরে সরে গেলেন? সেই কড়া সত্যি এবার প্রকাশ্যে এল।

আহমেদ খান এবং শাহিদ কাপুরের বন্ধুত্বের বয়স আজ থেকে ৩০ বছর আগেকার। যখন আহমেদ খানের বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর, আর শাহিদ কাপুর ছিলেন মোটে ৭ বছরের এক পুঁচকে ছেলে। সেখান থেকে পথ চলা শুরু। নয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিও ‘আঁখো মে তেরা হি চেহরা’ দিয়ে শাহিদের বলিউডে ডেবিউ করানো থেকে শুরু করে তাঁর প্রথম সুপারহিট ছবি ‘ইশক ভিশক’-এর কোরিওগ্রাফি— শাহিদের ছায়াসঙ্গী ছিলেন আহমেদ। এরপর শাহিদকে নিয়ে ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ পরিচালনা করা এবং ‘পাঠশালা’র প্রযোজনা— সব জায়গাতেই এই যুগলবন্দী ছিল সুপারহিট।

কিন্তু বাদ সাধল বলিউডের চাকচিক্য আর বদলে যাওয়া লাইফস্টাইল। আহমেদ খান এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলেন, "আসলে এই গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রিটাই এমন! এখানে কাজ করতে করতে রোজ কত নতুন নতুন বন্ধু আসে। আর এত নতুন মানুষের ভিড়ে মানুষ একসময় ভুলেই যায় যে তার আসল বা খাঁটি বন্ধু কারা ছিল।"

শাহিদ আর আহমেদের এই ৩০ বছরের রূপকথার মতো বন্ধুত্বে প্রথম বড় ফাটল ধরে ২০১৫ সালে। আহমেদ খান তখন কানের এক মারাত্মক স্নায়ুর সমস্যায় ভুগছেন, তীব্র ‘ভার্টিগো অ্যাটাক’-এর কারণে দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের বিছানায় শয্যাশায়ী। নড়াচড়া করার ক্ষমতাটুকুও ছিল না তাঁর। আহমেদ আশা করেছিলেন, তাঁর শৈশবের বন্ধু শাহিদ অন্তত একবার তাঁকে দেখতে আসবেন। কিন্তু শাহিদ আসেননি।

তীব্র অভিমানের আগুন জ্বলছিল ভেতরে ভেতরে। তার ঠিক কয়েক মাস পরেই ছিল মীরা রাজপুতের সঙ্গে শাহিদ কাপুরের হাই-প্রোফাইল বিয়ে। গোটা বলিউড সেখানে আমন্ত্রিত হলেও, শাহিদের সেই বিয়ের ড্রপ-আউট লিস্টে চলে যায় শৈশবের প্রিয় বন্ধু আহমেদের নাম! শাহিদ তাঁকে বিয়েতে ডাকেননি, আর আহমেদও আর সাধ করে যাননি। আহমেদ ২০১৫ সালের সেই যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতির কথা মনে করে বলেন, “আমাদের মধ্যে কিছু দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। আর শাহিদের বিয়েতে ডাক না পাওয়া এবং আমার অসুস্থতায় ওর না আসা— এই দু’টো ঘটনায় দূরত্বটা একেবারে সামনে চলে আসে।”

শাহিদ কাপুর এখন বলিউডের প্রথম সারির তারকা। অন্যদিকে আহমেদ খানও ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’-এর মতো বিগ-বাজেট ছবি পরিচালনা করছেন। তবে কি দুই পুরোনো বন্ধুর মান-অভিমানের বরফ কোনওদিন গলবে না? আবার কি কখনও একসঙ্গে কাজ করবেন তাঁরা?

আহমেদ খান অবশ্য পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই উত্তর দিয়েছেন। তাঁর মতে, শাহিদ এখন একটি নির্দিষ্ট ‘টেমপ্লেট’ বা ঘরানার ছবি করতে চাইছেন, আর তিনি নিজে অন্য ধরণের ছবি বানাচ্ছেন। আহমেদ বলেন, “আমরা এখন আর আগের মতো দেখাসাক্ষাৎ করি না, জীবন আমাদের দুজনকে দুটি আলাদা দিকে নিয়ে গেছে। তবে ভবিষ্যতে যদি আমাদের চিন্তাভাবনা আর ছবির মানসিকতা এক বিন্দুতে মেলে, তবে আমরা নিশ্চয়ই আবার একসঙ্গে কাজ করব।”

বলিউডের এক চরম নিষ্ঠুর সত্যকে যেন আরও একবার আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল শাহিদ-আহমেদের এই ভাঙা বন্ধুত্বের গল্প। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের পেছনে যে কত সম্পর্কের অপমৃত্যু ঘটে, এই গল্প তারই এক জীবন্ত দলিল!