রাজনীতি মানেই কি শুধু ক্ষমতার লোভ না কি এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক সাধারণ মানুষের সর্বস্বান্ত হওয়ার ট্রাজিক গল্প? এই সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আসতে চলেছে কামেলিয়া প্রোডাকশনস প্রাইভেট লিমিটেড এবং রূপা দত্তর প্রযোজনায় নতুন পলিটিক্যাল-স্যাটায়ার ওয়েব সিরিজ ‘পলিট্রিকস’। আগামী ২৬শে জুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ফ্রাইডে’-তে একচেটিয়াভাবে প্রিমিয়ার হতে চলা এই সিরিজের ট্রেলারটি আজ মুক্তি পেল, যা ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে বেশ কৌতূহল তৈরি করেছে।

পরিচালক দেবাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই সিরিজে দেখা যাবে টলিউডের একঝাঁক চেনা মুখকে— সৌরভ দাস, অরুণিমা ঘোষ , রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, রতন সরখেল, প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং অশোক ভট্টাচার্য।

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে বালুরঘাটের এক সাধারণ অথচ অত্যন্ত সম্মানিত পোলট্রি ব্যবসায়ী বিষ্ণু চরণ দাস। এলাকায় পরোপকারী মানুষ হিসেবে ওঁর সুনাম রয়েছে, বিশেষ করে ওঁর বাড়ির জাঁকজমকে ভরা কালীপুজোর জন্য তিনি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু বন্ধুদের উস্কানি এবং নিজের সুপ্ত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বিষ্ণু সিদ্ধান্ত নেন আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়ানোর।

আর এই সিদ্ধান্তই ওঁর সাজানো জীবনকে এক লহমায় নরক বানিয়ে তোলে। ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে, কীভাবে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নোংরা চাল এবং ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে বিষ্ণু সম্পূর্ণ একা এবং বিধ্বস্ত হয়ে যায়। কিন্তু যখন সব আশা শেষ, ঠিক তখনই ওঁর সামনে আসে এক অভাবনীয় প্রস্তাব— যা ওঁর জীবনকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এরপর কি বিষ্ণু পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করবেন, না কি নিজের হারিয়ে যাওয়া সম্মান ফিরে পেতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করবেন? তা নিয়েই এগোবে সিরিজের গল্প।

 

সিরিজটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক দেবাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “‘ পলিট্রিকস’ মূলত একটি হালকা চালের কমেডি হলেও, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এটি ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক। আমরা একসময় ফিকশনাল স্যাটায়ার বা গল্প হিসেবে যে টাকার খেলা ও রাজনৈতিক কারচুপিকে ভেবেছিলাম, আজ বাস্তবে চারপাশে ঠিক সেটাই ঘটছে। হাস্যরস ও বিনোদনের মোড়কেই এই রিলেটেবল গল্পটি বোনা হয়েছে। সৌরভ, রাহুল এবং গোটা কাস্ট অসাধারণ অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে রাহুলের অভিনয় এবং ওঁর মেধার প্রতি এই সিরিজটি এক স্মরণীয় ট্রিবিউট হয়ে থাকবে।”

সিরিজের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বিষ্ণুর স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অরুণিমা ঘোষ। নিজের চরিত্র নিয়ে উচ্ছ্বসিত অরুণিমা জানান, “আমার চরিত্রের মধ্যে অনেকগুলো স্তর আছে। ও খুব সাধারণ ঘরের মেয়ে হলেও কিছু পরিস্থিতিতে ও না জেনেই প্রচণ্ড ফানি। ও উচ্চশিক্ষিত নয়, কিন্তু সময়ে ওঁর স্বামীকে ও খুব বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ দেয়। ও ওঁর স্বামীকে গভীরভাবে ভালবাসে ও পাশে থাকে। সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল গল্পের সঙ্গে সঙ্গে ওঁর চরিত্রের যে মানসিক রূপান্তর ঘটে, তা ফুটিয়ে তোলা।”