প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি এবং টলিউডের সেরা ‘ব্যাড বয়’ বিপ্লব চ্যাটার্জির পর্দার লড়াই একসময় কাঁপিয়ে দিত সিনেমা হল। কিন্তু ক্যামেরার পেছনের বাস্তব জীবনে তাঁদের সমীকরণটা যে কতটা গভীর ও আবেগের, সম্প্রতি তারই এক ঝলক দেখা গেল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সমস্ত ব্যস্ততা সরিয়ে সম্প্রতি বুম্বাদা সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন ওঁর প্রিয় ‘বিপ্লবদা’ এবং বৌদির বাড়িতে। একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে চলল জমিয়ে আড্ডা।

সেই আড্ডার কিছু অন্তরঙ্গ ও আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে প্রসেনজিৎ লিখলেন,“অনেকদিন পর বিপ্লব দা ও বৌদির সাথে আড্ডা দিলাম ..মন ভালো হয়ে গেলো।”

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে কোনও তারকার অহংকার ছিল না, সেখানে প্রসেনজিৎ ধরা দিলেন স্রেফ বড় দাদার কাছে আসা এক আদরের ছোট ভাই হিসেবে। আড্ডার মাঝেই উঠে এল পুরোনো দিনের এক হাড়হিম করা শ্যুটিং সেটের গল্প। যেখানে কোনও এক কারণে মেজাজ হারিয়ে এক ব্যক্তিকে এলোপাথাড়ি মারতে বাকি রেখেছিলেন রাগী স্বভাবের বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়। সেদিন যদি প্রসেনজিৎ মাঝখানে না দাঁড়াতেন, তবে বড় কোনো অঘটন ঘটে যেত। সেই খ্যাপাটে মুহূর্তের কথা মনে করে ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ হাসতে হাসতে বলেন,  “আমি সেদিন বিপ্লবদার দু’পা জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কাঁদছি! ওঁর পা ছাড়ছি না, ওঁর ওপর উঠতে দিচ্ছি না। কারণ আমি খুব ভাল করেই জানি, একবার যদি বিপ্লবদা সেদিন উঠে দাঁড়াত, তবে ওই লোকটা পুরো শেষ হয়ে যেত! ওখান থেকে কোনঅভাবে ওকে বের করে দিয়েছিলাম আমি।”

পাশ থেকে মাথা নাড়িয়ে এবং ঠোঁটের কোণে চেনা হাসি ফুটিয়ে ‘বুম্বা’র এই স্মৃতিচারণে সায় দিতে দেখা গেল বর্ষীয়ান অভিনেতা বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়কেও।
স্মৃতির সরণি বেয়ে প্রসেনজিতের কথায় আরও উঠে এল ওঁর ছোটবেলার এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ‘মানিকবাবু’ অর্থাৎ বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সামনে মঞ্চে অভিনয় করেছিলেন প্রসেনজিৎ। ‘চারমূর্তি’র গল্প অবলম্বনে তৈরি সেই নাটকে ‘টেনিদা’ নাটকে মঞ্চ কাঁপিয়েছিলেন 'বুম্বাদা'। আর সেদিন দর্শকাসনে সত্যজিৎ রায়ের পাশাপাশি উপস্থিত থেকে সেই খুদে প্রসেনজিতের অভিনয় প্রত্যক্ষ করেছিলেন খোদ বিপ্লব চ্যাটার্জিও। সেই নস্টালজিয়াও নতুন করে তাজা হয়ে ওঠে তাঁদের আড্ডায়।

সিনেমার গল্প শেষে প্রসেনজিতের বর্তমান ফিটনেস ও লুকের অকুণ্ঠ প্রশংসা করতে শোনা যায় বিপ্লব চট্টোপাধ্যায় এবং ওঁর স্ত্রীর মুখে। বুম্বাদাকে দেখে আদর করে বৌদি বলে ওঠেন, “বুম্বা, কী মিষ্টি লাগছে তোকে!” শুধু তাই নয়, বিদায়বেলায় আদরের ছোট ভাইয়ের হাতটি নিজের হাতের মুঠোয় টেনে নিয়ে তাতে এক স্নেহচুম্বন এঁকে দেন বর্ষীয়ান অভিনেতার স্ত্রী। অত্যন্ত আবেগঘন গলায় তিনি অনুরোধ করেন, “সুস্থ থাকবি আর মনে রাখবি আমাদের। আমাদের আর কিচ্ছু চাই না...” টলিউডের দুই মহারথীর এই পুনর্মিলন এবং পরিবারের এই নিখাদ ভালবাসা দেখে নেটিজেনদের চোখও আজ জলে ভিজেছে।