নিজস্ব সংবাদদাতা: সময়টা নয়ের দশক। প্রেক্ষাগৃহে রমরমিয়ে চলছে বাংলা ছবি। বাণিজ্যিক মূলধারার ছবির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা চিরঞ্জিৎ ততদিনে পরিচালক হিসাবে একাধিক ছবি তৈরি করে ফেলেছেন। পাশাপাশি মঞ্চেও চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনয়। এরকম একটা সময়ে দাঁড়িয়ে তিনি ঠিক করলেন শেক্সপিয়রের বিখ্যাত নাটক 'দ্য টেমিং অফ দ্য শ্রিউ'কে বাঙালি জীবনের প্রেক্ষাপটে ফেলে তৈরি করবেন ছবি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। তৈরি হল 'কেঁচো খুঁড়তে কেউটে'। গল্প, চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি ছবি পরিচালনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন চিরঞ্জিৎ। সঙ্গে ছবির অন্যতম মুখ্য চরিত্র 'হরিদাস পাল'-এর ভূমিকায় অভিনয় তো রইলই। টানা ৭৫ সপ্তাহ ধরে সেই ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হয়েছিলেন দর্শক! 

এরপর পেরিয়ে গিয়েছে প্রায় তিন দশক। এবার 'কেঁচো খুঁড়তে কেউটে' ছবির সিক্যুয়েল তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছেন চিরঞ্জিৎ। ছবির চিত্রনাট্য লেখা হয়ে গিয়েছে। যাবতীয় পরিকল্পনাও সারা হয়ে গিয়েছে।
 আজকাল ডট ইন-কে চিরঞ্জিৎ বললেন, "সিক্যুয়েলের ভক্ত আমি খুব একটা নই। আজকাল সব ছবি, ওয়েব সিরিজেরই দেখি সিক্যুয়েল তৈরি হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কোনও একটি গল্পের ঘন ঘন নিত্যনতুন পর্ব বানানোর তুলনায় যদি নতুন বিষয় নিয়ে কাজ করা যায় সেটা সবদিক থেকেই ভাল। তবে হ্যাঁ, নিশ্চয়ই কিছু ছবি থাকে, পর্দার কোনও চরিত্র থাকে যাঁকে নিয়ে গল্প বলা বাকি থেকে যায় গল্পকারের। অন্যদিকে দর্শকরাও সেই ছবির চরিত্রদের নিয়ে আরও কথা জানতে চান। তাই সেক্ষেত্রে কিছু ছবি, ওয়েব সিরিজের সিক্যুয়েল কাম্য। 'কেঁচো খুঁড়তে কেউটে' এমনই একটি ছবি বলে আমার বিশ্বাস"। 

পরিচালক-অভিনেতার বলে চলেন, "এই ছবিতেও 'হরিদাস পাল' হিসাবে থাকব। তাঁর পাগলামিও থাকবে। তবে এখন যে বয়সের কোঠায় আছি তা মাথায় রেখেই। ছবি বাণিজ্যিক ধারার হলেও একাধিক সামাজিক বিষয় উঠে আসবে"। জানা গেল, 'কেঁচো খুঁড়তে কেউটে-এর সিক্যুয়েলের শুধু গল্পকার এবং অভিনেতা হিসাবে নয়, এবারও ছবির পরিচালকের আসনে তিনিই বসছেন। প্রশ্ন ছিল, প্রিক্যুয়েলের মতো এই ছবিতেও কি তাঁর বিপরীতে অভিনেত্রী ইন্দ্রানী দত্তকে দেখা যাবে? চিরঞ্জিতের জবাব, "সেই ভেবেই তো এগোচ্ছি। দেখা যাক্!" 
কথাশেষে উঠে এল 'অযোগ্য'র প্রসঙ্গ। উদাত্ত গলায় ছবির প্রশংসা করে সাধুবাদ জানালেন পর্দায় প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার রসায়নের। "বুম্বা আর ঋতুকে নিয়ে আমার একটি ছবি পরিচালনা করার ইচ্ছে রয়েছে। গল্প ভাবা রয়েছে। মূলতঃ, সম্পর্ক নিয়েই। প্রেম থাকবে নিশ্চয়ই তবে ম্যাচিওর্ড। ওঁদেরও সেই গল্প শুনে ভাল লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস", বক্তব্য এই বর্ষীয়ান অভিনেতা-রাজনীতিবিদের। আপাতত এটুকুই। এখনই এই বিষয়ে আর কোনও কথা বলতে রাজি হলেন না চিরঞ্জিৎ। মুচকি হেসে শুধু বললেন, "আর ক'টা দিন অপেক্ষা করুন না"।