আগামী ১ মাস টিআরপি আসবে না কোনও ধারাবাহিকের। কিন্তু কেন? হঠাৎ কী ঘটল? কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিলকে আগামী ৪ সপ্তাহ অর্থাৎ ১ মাস টিআরপি তালিকা প্রকাশ না করার নির্দেশ দিয়েছে। নেপথ্যে রয়েছে মধ্য প্রাচ্যের অশান্তির আবহ। 

কী জানা গিয়েছে? কেন্দ্রীয় সরকারের মিনিস্ট্রি অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং এর তরফে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানেই ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল ওরফে বার্ককে নির্দেশ দেওয়া গিয়েছে যে তারা যেন আগামী এক মাস কোনও টিআরপি তালিকা প্রকাশ্যে না আনে। 

প্রসঙ্গত, এই ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল ওরফে বার্ক আদতে একটি টেলিভিশন রেটিং এজেন্সি যেটা পলিসি গাইডলাইন ফর টেলিভিশন রেটিং এজেন্সিস ইন ইন্ডিয়ার অধীনে রেজিস্টার্ড। এই পলিসি ভারতীয় টিভি জগতের রেটিংয়ের জন্য ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি তৈরি হয়েছিল। 

কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বার্ককে? মিনিস্ট্রি অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং এর তরফে দেখা গিয়েছে যে ইরান, ইজরায়েলের এই সংঘাতের আবহে একাধিক নিউজ টিভি চ্যানেলের তরফে একাধিক অনুমানমূলক এবং সংবেদনশীল খবর পরিবেশন করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে যাঁদের পরিবার, বন্ধুরা মধ্য প্রাচ্যে থাকেন তাঁদের মধ্যে প্যানিক তৈরি করছে অকারণ। এই আবহে এটা মোটেই কাম্য নয়।

তাই জনস্বার্থে মিনিস্ট্রি অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড ব্রডকাস্টিং এর তরফে ব্রডকাস্ট অডিয়েন্স রিসার্চ কাউন্সিল ওরফে বার্ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যেন টেলিভিশন রেটিং পয়েন্টস বা টিআরপি যেন না আনা হয় সংবাদ চ্যানেলগুলোর জন্য, অন্তত ৪ সপ্তাহের জন্য। বা যতক্ষণ না নির্দেশ আসছে।

প্রসঙ্গত বাংলায় বৃহস্পতিবার করেই সাধারণত টিআরপি এসে থাকে। আর এর ভিত্তিতেই কোন চ্যানেলের কোন শো বেশি জনপ্রিয়, বেশি দর্শক ধরে রাখছে সেটা বোঝা যায়। ফলে চলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কে কী করে নিজেদের অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে সেটার চেষ্টা করে। কিন্তু এই অশান্তির আবহে এই লড়াই থামানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত। তবে কেবল নিউজ চ্যানেলের টিআরপি আসবে না, নাকি কোনও অনুষ্ঠান এবং চ্যানেলেরই টিআরপি আগামী এক মাস আসবে না সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।