বলিউডের স্বর্ণলী যুগের এক অনন্য নাম আশা পারেখ। ‘কটি পতঙ্গ’, ‘ক্যারাভান’, ‘তিসরি মঞ্জিল’, ‘লভ ইন টোকিও’-এর মতো একের পর এক হিট ছবিতে নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে? সেখানেও তাঁর গল্প যেন কম সিনেম্যাটিক নয়—ভালবাসা ছিল, কিন্তু বিয়ে নয়।

প্রেম ছিল, কিন্তু বিয়ে নয়

নিজের জীবন নিয়ে অকপট আশা পারেখ। বহুবার বলেছেন, পরিচালক নাসির হুসেন-ই ছিলেন তাঁর জীবনের একমাত্র প্রেম। তবে সেই সম্পর্ক কখনও বিয়ের পরিণতি পায়নি। কারণ? নিজের ভাষায়, “আমি কখনও কারও সংসার ভাঙার মানুষ নই।”

কেন বিয়ে করেননি?

এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর স্পষ্ট মত—বিয়ে মানেই শুধু সুখের রঙিন গল্প নয়। সেখানে ছাড় দেওয়াও জরুরি। আর সেটাই তাঁর স্বভাবে ছিল না। তিনি জানান, মায়ের পছন্দ করা ছেলেদের সঙ্গে দেখা করেও বিরক্ত হয়ে উঠতেন। কারও অতিরিক্ত আত্মপ্রেম, কারও আচরণ, সব মিলিয়ে বিয়ের ধারণাটাই তাঁর কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।এমনকী সহ-অভিনেতা রাজেশ খান্না ও বিনোদ খান্না-র জীবনে প্রেম-ঝামেলার অভিজ্ঞতাও তাঁকে ভাবিয়ে তুলেছিল। “আমি কাউকে আমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে দেব না” এই ছিল তাঁর স্পষ্ট সিদ্ধান্ত।


তবে একবার বিয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন আশা পারেখ। এক মার্কিন অধ্যাপকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। কিন্তু গভীর রাতে এক ক্যাফেতে সেই ব্যক্তির হঠাৎ স্বীকারোক্তি, “আমার তো আগে থেকেই প্রেমিকা আছে” সবকিছু বদলে দেয়। সেই মুহূর্তেই সম্পর্ক শেষ করে দেশে ফিরে আসেন আশা পারেখ। আর সেই ঘটনাই যেন চূড়ান্তভাবে তাঁর বিয়ে-ভাবনা থেকে সরে আসার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

 

এতকিছুর পরেও একটাই কথা বারবার বলেছেন তিনি -কোনও আক্ষেপ নেই। একা থাকার ভয় তাঁকে কখনও তাড়া করেনি। বরং নিজের মতো করে, কাউকে আঘাত না দিয়ে জীবন কাটানোর মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন শান্তি। এক জীবনে একটাই প্রেম, আর সেই স্মৃতিকে সম্মান—এই দর্শনেই যেন আলাদা হয়ে ওঠে আশা পারেখ-এর জীবনের গল্প।