কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা বিশ্ব। তাঁর দীর্ঘ আট দশকের কেরিয়ারে তিনি যে কেবল সুরের মায়া ছড়িয়েছেন তাই নয়, গড়েছেন একাধিক বিশ্বরেকর্ড।
ভারতের সঙ্গীত আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ৯২ বছর বয়সে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন হলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে। শনিবার মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার পর রবিবার সকালে সুরের মায়া কাটিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘আশা তাই’। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সংগীতে এমন এক শূন্যতা তৈরি হলো যা অপূরণীয়।
আশা ভোঁসলে কেবল একজন গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক চলন্ত ইতিহাস। ২০১১ সালে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে ‘মোস্ট-রেকর্ডেড আর্টিস্ট’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০ টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় প্রায় ১১,০০০-এর বেশি একক, দ্বৈত এবং কোরাস গান গেয়েছেন তিনি। কিছু সূত্র অনুযায়ী, তাঁর মোট গানের সংখ্যা ১২,০০০-এরও বেশি। এই বিপুল সংখ্যক গান রেকর্ড করা বিশ্বের যেকোনো সংগীতশিল্পীর কাছে এক স্বপ্নাতীত মাইলফলক।
১৯৪৩ সালে শুরু হওয়া তাঁর এই দীর্ঘ সফরে আশা ভোঁসলে নিজেকে কোনও নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখেননি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে গজল, পপ, কিংবা ক্যাবারে—প্রতিটি ঘরানায় তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। হিন্দি, মারাঠি ও বাংলার পাশাপাশি তামিল, মালয়ালম, এমনকি ইংরেজি এবং রাশিয়ান ভাষাতেও তাঁর কণ্ঠের জাদু মুগ্ধ করেছে শ্রোতাদের। ‘পিয়া তু আব তো আ যা’, ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায়’ কিংবা ‘ইন আঁখো কি মস্তি’-র মতো গানগুলো চিরকাল অমর হয়ে থাকবে।
সঙ্গীত জগতে তাঁর অনবদ্য অবদানের জন্য ২০০০ সালে তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করে। মহারাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক মন্ত্রী আশীষ শেলার তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। আজ সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত শিল্পীর মরদেহ তাঁর বাসভবনে রাখা থাকবে। বিকেল ৪টেয় মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
















