প্রয়াত আশা ভোঁসলে। ৯২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুরসম্রাজ্ঞী৷ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিল্পী থেকে অনুরাগী সকলের মনে৷
আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করেছিল বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির সঙ্গে, তিনি বলেন, "লতাজি সুরেলা কণ্ঠ, দারুণ আওয়াজ, অসামান্য রেঞ্জ৷ আর আশাজি কণ্ঠস্বর বদলে গান গাইতে পারতেন৷ এক অন্য রকম আবেদন ছিল গলায়, যা আর অন্য কোনও গায়িকার ছিল না। ঈশ্বরতুল্য আশীর্বাদ। লতা-আশা যেন সরস্বতীর দুই রূপ। ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাসে এঁদের মতো হওয়া হয়তো অসম্ভব৷ আমার বহু হিট ছবিতে গান গেয়েছেন আশাজি৷ গান গাওয়ার আগে ভাল করে শুনতেন। পছন্দ হলে গানের মধ্যে ডুবে যেতেন৷"
বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির মতে, "আশাজি-লতাজিকে নিয়ে একটা বিতর্ক সারাজীবনই তৈরির চেষ্টা হয়েছে কিন্তু আমার তো যাতায়াত ছিল৷ আমি দেখেছি দিদিকে ছাড়া কিন্তু চলত না আশাজির৷ লতা-আশা-উষা-মীনা-হৃদয়নাথ সকলে মিলে সাঙ্গীতিক পরিবার৷ এক একজনের এক এক রকম স্টাইল৷ লতাজি-আশাজির মৃত্যু আমাদের ভারতের ক্ষতি।"
বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জির ছবিতে গান গাওয়ার কথা ছিল আশা ভোঁসলের৷ গান নিয়ে কথাও হয়েছিল দু'জনের৷
"শেষ বয়স পর্যন্ত গান গেয়েছেন৷ গতবছর ফোন করলাম, বললাম আশাজি একটা আইটেম নাম্বার আছে, আপনাকেই গাইতে হবে৷ এটা আপনারই গান৷ একমাত্র আপনিই গাইতে পারবেন। উনি বললেন আমি কি তোমাকে কোনওদিন না বলেছি বিশ্বজিৎ, তুমি যখনই বলেছ আমি তোমার বাংলা হিন্দি সব ছবিতে গান গেয়েছি৷ আমি যাচ্ছি দুবাইতে৷ আমার লাইভ শো আছে৷ তারপর আমি তোমার গান শুনব৷ কিন্তু সেই গান আর হল না, ফিরে আসার পরে ওঁর নানা ব্যস্তুতায়। গানটা শোনানোই হল না।"
বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জি বলেন, "পঞ্চম আমার বন্ধু ছিল৷ আশাজি বলেছিলেন পঞ্চমকে, বিশ্বজিৎকে দিয়ে গান গাওয়াও৷ আজ সেই সব স্মৃতি মনে পড়ছে৷ মনটা ভারী হয়ে গিয়েছে৷ এখনও আমি শো করতে গিয়ে ওঁর গান গাই। তবে মৃত্যুর আগে বড় আঘাত পেয়ে গেলেন৷ মেয়ে বর্ষা যখন আত্মহত্যা করলেন সেই সময় উনি খুব ভেঙে পড়েন৷ কিন্তু আবারও নিজেকে শক্ত করলেন৷"
"লন্ডনে আমি লতাজির সঙ্গে লাইভ শো করেছি৷ আর বার্মিংহামে আমি আশাজির সঙ্গে লাইভ শো করেছি৷ এই দুটো আমার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা৷ এক হোটেলে থাকা, গল্পগুজব আড্ডা, ভীষণ খোলা মনের ছিলেন আশাজি৷ আমি বল ডান্সও করেছি ওঁর সঙ্গে। ব্যক্তিগত সমস্যাও আমাকে জানাতেন আশাজি৷ না ফেরার দেশে আশাজি৷ আমরা জন্মেছি মৃত্যু তো অনিবার্য। ঈশ্বরের কাছে শান্তিতে থাকুন৷ গানের জগতে তো আর আশা ভোসলে আসবে বলে মনে হয় না। আশা অমর৷ "
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় গতকাল মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় শিল্পীকে৷ এক্স হ্যান্ডলে নাতনি জনাই ভোঁসলে লেখেন, " আমার ঠাকুরমা খুবই ক্লান্ত, ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে৷ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে৷ সকলের কাছে অনুরোধ, দয়া করে আমাদের একা ছেড়ে দিন। আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান দিন৷"
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আশা ভোঁসলের আরোগ্য কামনা করেছিলেন৷
রবিবার সকালে আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানান, কিংবদন্তী শিল্পী পরলোকগমন করেছেন৷ আগামীকাল সকাল ১১ টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন সকলে৷ আগামীকাল বিকাল ৪ টেয় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে৷















