প্রয়াত আশা ভোঁসলে। ৯২ বছরে থামল তাঁর জীবনের সুর। ১১ এপ্রিল রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন হাসপাতালে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। কিন্তু ১২ এপ্রিল বেলা গড়াতেই এল দুঃসংবাদ।
আশা ভোঁসলের সঙ্গে কাজ করেছেন সাধনা সরগম। সঙ্গীতশিল্পীর প্রয়াণে তাঁর সঙ্গে আজকাল ডট ইনের তরফে যোগাযোগ করা হলে খবরটা শুনেই শিউরে ওঠেন সাধনা। বলেন, "হ্যাঁ! কী? না আমি জানতাম না! হে ঈশ্বর, আমি শকড। আমি তো আশা করছি যে উনি ঠিক হয়ে যাবেন। এটা শুনেছিলাম যে উনি হাসপাতালে। কিন্তু সকাল থেকে এই খবরটা জানি না।"
শোকপ্রকাশ করে সাধনা বলেন, "এত বড় লেজেন্ড। যখন থেকে জ্ঞান হয়েছে, যবে থেকে গান গাওয়া শুরু করেছি, তবে থেকে ওঁকে শুনছি। উনি আমার গুরুর মতো। আমাদের দেশের গর্ব উনি। গোটা দুনিয়ায় উনি আমাদের নাম ছড়িয়ে দিয়েছেন। আমাদের সঙ্গীতে ওঁর এত অবদান, সেটা বলে বোঝানো যাবে না।"
কথায় কথায় একসঙ্গে কাজের স্মৃতিও উঠে আসে। সাধনা বলেন, "রাজেশ রোশনের 'খুন ভরি মাং' ছবিতে গান গেয়েছি। মারাঠিতেও গান গেয়েছি। পঞ্চমদার 'তড়প' ছবিতে আমি, আশাজি আর অমিত কুমার গান গেয়েছিলাম। আমরা তিনজন টাইটেল সং গেয়েছিলাম। উনি সবসময় আশীর্বাদ করেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন। দেখা হলেই মিষ্টি করে কথা বলতেন। শুরুর দিকে কখনও বুঝতে দেননি যে নতুন গায়িকা, বা কিছু। এত বছর পরেও না। ওঁর সঙ্গে যখনই দেখা হয়েছে সবসময় ভালবেসে কথা বলেছেন। উনি সবসময় ইনস্পিরেশন ছিলেন। গানের প্রতি ওঁর যা ডেডিকেশন, অবদান সেটা অতুলনীয়। যতই কঠিন পরিস্থিতি হোক না কেন, তিনি সেটার মোকাবিলা করে নিজের কাজ করে যেতেন।"
শোকের ছায়া প্রায় গোটা বিশ্বে। প্রয়াত আশা ভোঁসলে। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। সম্প্রতি খবর এসেছিল, কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি। ১১ এপ্রিল, শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। জানা গিয়েছিল বর্ষীয়ান গায়িকার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতেই তাঁকে তড়িঘড়ি আইসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে অভিজ্ঞ কার্ডিওলজিস্টদের একটি বিশেষজ্ঞ দল তাঁর চিকিৎসা করছিলেন। কিন্তু চেষ্টা বিফলে। না ফেরার দেশে আশা ভোঁসলে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. প্রতীত সামদানি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, জানা গিয়েছিল হার্ট অ্যাটাক নয়, বরং বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। পরিবার সূত্রেই সেই খবর এসেছিল। বর্ষীয়ান গায়িকার নাতনি জানে ভোঁসলে সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, 'আমার ঠাকুমা, আশা ভোঁসলে প্রচণ্ড ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা আপনাদের কাছে আমাদের গোপনীয়তা বা ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি। তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং আশা করছি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আপনাদের সবটা জানাব।'
'পিয়া তু আব তো আজা’ কিংবা ‘ইয়ে মেরা দিল’-এর মতো গানগুলো সঙ্গীতের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছিল। তবে কেবল গ্ল্যামার নয়, ‘ইন আঁখো কি মাস্তি’ এবং ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’-এর মতো গানে তাঁর ধ্রুপদী সুরের গভীরতা ও দক্ষতা প্রমাণ করে যে, কেন তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সঙ্গীতপ্রেমীদের হৃদয়ে একচেটিয়া রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর কালজয়ী কণ্ঠেই অমর হয়ে থাকবেন আশা ভোঁসলে।
















