সান বাংলায় রমরমিয়ে চলছে 'বৃন্দাবন বিলাসিনী' ধারাবাহিক। গল্প অনুযায়ী শাক্ত ও বৈষ্ণব ভক্তির লড়াই হবে। মুণ্ডমালিনী দেবীর পূজারী গল্পের নায়কের মা। এই চরিত্রেই রয়েছেন সোমা। অন্যদিকে, কৃষ্ণ ভক্তের রূপে দেখা যাচ্ছে সুদীপ্তাকে। কীভাবে ভক্তির মিশেলে সব দ্বন্দ্ব মিটে যাবে, সেই গল্পই ফুটে উঠছে এই ধারাবাহিকে। এই দোলাচলের মধ্যেই ধারাবাহিকে আসছে নতুন চরিত্র। গল্পে 'কর্ণ'র চরিত্রে দেখা যেতে চলেছে অভিনেতা অর্কজ্যোতি পাল চৌধুরীকে।
কর্ণের চরিত্রটি এক কথায় বলতে গেলে এক জটিল রহস্য। আপাতদৃষ্টিতে তাকে দেখে মনে হয় সে অত্যন্ত প্রাণবন্ত, হাসিখুশি এবং ইতিবাচক একজন মানুষ, যার মধ্যে একটা 'এনআরআই' চালচলন আছে। সে খুব সহজেই সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে বাড়ির কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায় না যে তার আসল রূপ কতটা ভয়ঙ্কর। মোহিনী বার্থ সার্টিফিকেট ও পাসপোর্টের মতো সবরকম প্রমাণ দিয়ে তাকে গোবিন্দের আগের পক্ষের সন্তান হিসেবে সবার সামনে নিয়ে আসে। এমনকী কর্ণের মা-ও পরে এই মিথ্যে পরিচয়ে সিলমোহর দেয়।
কিন্তু এই সবটাই এক গভীর ষড়যন্ত্র। আসলে কর্ণ একজন শয়তানের পূজারী এবং কালো জাদুর সাধক। সে গভীর রাতে তন্ত্রসাধনা করে এবং ভুডু বিদ্যায় পারদর্শী। মোহিনী ও রুক্মিণীর ডাকে সাড়া দিয়ে সে এই বাড়িতে এসেছে মূলত বিনুকে শেষ করার জন্য। তার এই তান্ত্রিক শক্তির প্রভাবে রুক্মিণী আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং বাড়ির প্রায় সবাইকে সে নিজের বশ করে ফেলে। কিন্তু বিনুর মধ্যে প্রবল ঈশ্বর চেতনা থাকায় কর্ণ তাকে সহজে কাবু করতে পারে না। বাইরে থেকে তাকে ভদ্র মনে হলেও সে আদতে অত্যন্ত নিষ্ঠুর, এমনকী প্রয়োজনে সে মানুষ খুন করতেও একেবারেই দ্বিধাবোধ করে না।
শেষ পর্যন্ত বিনুই কর্ণের এই ভুয়ো পরিচয়ের মুখোশ খুলে দেবে এবং প্রমাণ করবে যে সে গোবিন্দের ছেলে নয়। পরিচয় গোপন করে যে সে এই বাড়ির ক্ষতি করছে তা সবার সামনে চলে আসবে। কিন্তু তার আগেই কি কর্ণর জালে জড়িয়ে পড়বে বিনু? কী হবে শেষমেশ? উত্তর মিলবে ধারাবাহিকের আগামী পর্বে।
প্রসঙ্গত, অর্কজ্যোতিকে দর্শক এর আগে বহু ধারাবাহিকে বিভিন্ন চরিত্রে দেখেছেন। তাঁর অভিনয়ের শুরুটা হয় স্টার জলসার ধারাবাহিক 'বেহুলা'র হাত ধরে। গল্পে তাঁকে 'লখিন্দর'-এর চরিত্রে দেখেছিলেন দর্শক। অন্যদিকে, এই মুহূর্তে জি বাংলার ধারাবাহিক 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এ রাজনন্দিনীর ভাই অর্কর চরিত্রে দেখা যাচ্ছে অভিনেতাকে। তার মাঝেই নতুন চরিত্রে নজর কাড়তে আসছেন তিনি।
