‘‘কসবা অঞ্চলে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় কেনাকাটা সারছেন। ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়েছেন। গলা তুলে দরদাম করছেন। আশপাশের মানুষ বুঝতেই পারছেন না! নায়িকা মনের সুখে সারা বাজার চষে ফেলছেন। পিছনে নিঃশব্দে ক্যামেরা চলছে। টের পেতে পেতে ১০ মিনিট পার। যেই মাত্র টের পাওয়া ওমনি হইহই। আরে, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বাজার করছেন? দেখতে দেখতে নায়িকাকে ঘিরে ভিড়। শেষে নিরাপত্তা রক্ষীদের সাহায্যে তাঁকে টেনে বের করে আনলাম...’’, ---

শেষ হয়েছে অরিন্দম ভট্টাচার্যের আগামী ছবি ‘দুর্গাপুর জংশন’-এর শুটিং। আজকাল ডট ইনকে তারই গল্প বলতে গিয়ে এই ঘটনা ভাগ করে নিলেন পরিচালক। থ্রিলার ঘরানার এই ছবির পটভূমিকায় শিল্পনগরী দুর্গাপুর। সেখানে অতীতে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটে গিয়েছে। তারই রহস্যভেদে নেমেছেন তরুণ পুলিশ অফিসার বিক্রম চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গী সাংবাদিক স্বস্তিকা। বিক্রম পর্দায় খুবই রগচটা। স্বস্তিকা ততধিক ঠাণ্ডা মাথার মানুষ। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে রসায়ন তৈরি হবে? পরিচালকের মতে, দর্শক তেমনই আশা করছেন। ওটুকু রহস্যই থাক।



অরিন্দমের ‘শিবপুর’ ছবিতে স্বস্তিকা প্রথম মাফিয়া। এবারে সাংবাদিক। কোন চরিত্রে নায়িকা অনবদ্য?



সেকেন্ডের ভাবনা। তারপরেই পরিচালকের বিশ্লেষণ, ‘‘অতি সাধারণ গৃহবধূ থেকে অতি ভয়ঙ্কর মাফিয়া। আগের ছবিতে স্বস্তিকা স্বাভাবিক ভাবেই নিজেকে মেলে ধরার অনেকটা সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। একদম ভিন্ন ধারার চরিত্র। নায়িকা একচুল কাউকে জমি ছাড়েননি। এই ছবিতে তুলনায় চেনাজানা চরিত্রে। কিন্তু এখানেও সুযোগ পেয়েছেন। এবং স্বস্তিকা তাকে কাজেও লাগিয়েছেন।’’ তাঁর মতে, দুটো ছবির মধ্যে কোনও তুলনাই চলে না।

ছবিতে এই দুই চরিত্র ছাড়াও রয়েছেন রাজদীপ সরকার, প্রদীর ধর এবং বলিউডের একাবলী খান্না। পরিচালনা ছাড়াও ছবির কাহিনিকার এবং প্রযোজক অরিন্দম নিজে। ক্যামেরায় প্রসেনজিৎ চৌধুরী। সঙ্গীতে সৌম, শ্রী এবং তিরু। ‘শিবপুর’, ‘দুর্গাপুর’-এর পর তৃতীয় ছবিতে কোন ‘পুর’ থাকবে? প্রশ্ন শুনে হেসে ফেলেছেন পরিচালক। জানিয়েছেন, পরের ছবি ‘শিবপুর’-এর প্রিক্যুয়েল। মমতাশঙ্কর, খরাজ মুখোপাধ্যায়, রজতাভ দত্ত থাকবেন। বাকি অভিনেতারা এখনও চূড়ান্ত নন। মার্চ কিংবা এপ্রিলে মুক্তি পাবে স্বস্তিকা-বিক্রমের ছবি। তারপরেই শুট শুরু পরের ছবির।