সম্প্রতি কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের আগেই পুলিশ এসে শিলাজিৎ মজুমদারকে অনুষ্ঠান থামাতে বলে। শুধু তাই নয়, গায়কের কথায়, আঙুল দেখিয়ে 'খারাপ ইঙ্গিত' করে স্টেজ থেকে নেমে যেতেও বলা হয়। মঞ্চে দাঁড়িয়েই গোটা ঘটনার বিরোধিতা করেন তিনি। এরপর অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ গায়কের অনুরাগীরা সমাজমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান। এবার সেই তালিকায় কি নাম যুক্ত হল অরিজিৎ সিংয়ের?
সম্প্রতি অরিজিৎ সিং তাঁর একটি অনুষ্ঠানে শিলাজিৎ মজুমদারের কন্ঠে জনপ্রিয় গান লাল মাটির সরানে গেয়ে শোনান। শুধু তাই নয়, স্টেজে ফুটে ওঠে গায়কের ছবিও। অনেকেই মনে করছেন অরিজিৎ যেন এই সময় এভাবেই প্রতিবাদ জানিয়ে শিলাজিৎ মজুমদারের পাশে দাঁড়ালেন।
এদিন শিলাজিৎ নিজে এই ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। লেখেন, 'আমার গান এরকম সম্মান পেলে
দশটা অসম্মানেও কিছু এসে যায় না…! জিয়াগঞ্জের ব্যাটা বীরভূমের ব্যাটার এ গান গাইছে দেখলে অনেক খারাপ লাগা উধাও হয়ে যায়। দেখা হচ্ছে খুব শীঘ্রই….!' (পোস্ট দাতার বানান অপরিবর্তিত রাখা হল।)
শিলাজিৎ মজুমদার এই ভিডিও পোস্ট করতেই ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা। যদিও অনেকেই জানিয়েছেন এই গান কেবলই শিলাজিতের কণ্ঠেই ভাল লাগে। এই গান যেন তাঁরই। কিন্তু সহশিল্পীর থেকে এমন ভালবাসা, বার্তা পাওয়া যে সবসময় বিশেষ সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি পোস্ট করেন অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গোটা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। এই বিষয়ে তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'কাল শিলাদার অনুষ্ঠানে আমি ছিলাম। একজন শিল্পীকে যে ভাবে অপমান করা হল তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। আইন অমান্য করা হয়নি সুস্থ ভাবে একটা অনুষ্ঠানে পুলিশ কীভাবে একজন শিল্পীকে স্টেজের নিচ থেকে অসভ্যর মতো হাত দিয়ে ডেকে নেমে যেতে বলেন সেটা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিলাম।' তিনি এদিন আরও লেখেন, 'ওঁর ছবি এবং নাম আমার কাছে আছে। ১১ টা অবধি পারমিশন ছিল শিলাদা ঠিক ১০:৫৯ -এ শো শেষ করে জনৈক পুলিশকে যা বলার বলে নেমে গেছে। কোনও অসভ্যতামি নয়, ভদ্র ভাবে যা বলার বলে নেমে গেছে।'
প্রসঙ্গত, এই অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তের ঘটনা বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। ঠিক কী ঘটেছিল জানতে শিলাজিতের সঙ্গে আজকাল ডট ইন যোগাযোগ করলে, গায়ক বলেন, "গত পরশু ক্যাকটাস এবং লক্ষ্মীছাড়ার শো ছিল, সেটা বৃষ্টির জন্য ভেস্তে যায়। গতকাল আমার শো ছিল। সেই শোতে ক্যাকটাসকে অ্যাকমোডেট করা হয়। আমার সময় ছিল সাড়ে ৭ টায়। কিন্তু আমায় ওদের ঘণ্টা দু'য়েক সময় দিতে হয়। আমি সাড়ে ৯ টায় স্টেজ পাই। আমাদের আয়োজকরা বলেন ১১ টা অবধি সময় আছে, শো করুন। ১১ টা বাজতে পাঁচ তখন, আমাদের শেষ গানটাই গাইছি, সেই সময় একটা পুলিশের গাড়ি এল। ইউনিফর্ম পরা একজন ভদ্রলোক নামলেন সেখান থেকে। কোনও সৌজন্যবোধ তো ছিলই না, সেটা ছেড়েই দিলাম, হাত দেখিয়ে 'নেমে যান নেমে যান' করতে থাকেন। ওঁর ভঙ্গিটা আমার অত্যন্ত বিরক্তিকর লাগে, কারণ আমি এমন কোনও অপরাধ করিনি। ১১ টা অবধি অনুমতি ছিল, ১১ টা বাজতে পাঁচে এসে সেটা ওঁরা একটু ভাল ভাবে বলতেই পারতেন। আমাদের যথেষ্ট সেন্স আছে। যে সময় আমার বাড়ি ফিরে আসার কথা, তখনও আমি ওখানে অপেক্ষা করে শো করছি, এই বয়সে এসেও। উনি যে ভঙ্গিতে নামার কথা বলেন, সেই কারণে আমি ওঁকে কথাটা বলি, উনি আমায় যেভাবে আঙুল দেখিয়ে নেমে যেতে বলছিলেন, যেন আমি কোনও গুন্ডা বা অপরাধী। এই অসভ্যতার কোনও মানে হয় না। এটা যদি আমরা ১১.৩০ টা অবধি শো করতাম, কথা শুনতাম না, তাহলে একরকম হতো।'
