৩৯ বছরে পা দিলেন অরিজিৎ সিং। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে আবেগ, আনন্দে ভাসছেন তাঁর অনুরাগীরা। বন্ধু, সহকর্মীদের থেকে পেয়েছেন শুভেচ্ছা বার্তা। কিন্তু জানেন কি যে অরিজিৎ সিংয়ের ভক্ত দেশে, বিদেশে ছড়িয়ে, যাঁর গানের অনুরাগী ৮ থেকে ৮০ তিনি নিজেই একটা সময় তাঁর কণ্ঠকে ঘৃণা করতেন?
একবার একটি পডকাস্ট শোতে অরিজিৎ সিং জানিয়েছিলেন তিনি যে সময় কেরিয়ার শুরু করেছিলেন সেই সময় মানুষ তাঁর কণ্ঠকে পছন্দ করত না। গায়কের কথায়, 'মানুষ আমার কণ্ঠস্বর পছন্দ করত না। আমি যখন ওই কণ্ঠে গান গাইতাম কেউ পছন্দ করত না।' অরিজিতের আরও সংযোজন, 'আমায় তাই আমার কণ্ঠস্বর বদলাতে হয়েছিল। বলা যায় এক প্রকার গলা ভেঙে ভেঙে আজকের এই টেক্সচার বানিয়েছি। নিজের গলাকে নিজেই তৈরি করেছি। নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি যাতে ভয়েসের প্রজেকশন বদলাতে পারি। রাত জেগে জেগে রেওয়াজ করেছি। গলা ক্লান্ত হয়ে যেত যখন তখন শুতে যেতাম।'
এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, অরিজিৎ সিং ফেম গুরুকুল নামক একটি রিয়্যালিটি শোতে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু জিততে পারেননি। এরপর তিনি মার্ডার ছবিতে সুযোগ পান প্লেব্যাক করার। ফির মহব্বত তাঁর প্রথম গান। সেই গান হিট হলেও, অরিজিৎ সিং পরিচিতি পান, জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান আশিকি ২ ছবির তুম হি হো গানটির হাত ধরে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে অরিজিৎ সিং ঘোষণা করেন তিনি আর প্লেব্যাক করবেন না। এখনও তাঁর কিছু প্লেব্যাক করা গান মুক্তি পাচ্ছে। যে যে প্রজেক্টে তিনি সই করেছেন সেগুলো করবেন, কিন্তু নতুন কোনও প্রজেক্ট আর নেবেন না। প্লেব্যাক থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন। কিন্তু স্বাধীন ভাবে গান নিয়ে কাজ করবেন। ছবি বানাবেন। সম্প্রতি তাঁর গাওয়া ‘রানা’ গানটি শ্রোতাদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে।
১৯৮৭ সালের ২৫ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন অরিজিৎ সিং। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০০৫ সালে অংশ নেন ফেম গুরুকুল রিয়েলিটি শোতে। গুর রাজেন্দ্র প্রসাদ হাজারির অনুপ্রেরণায় অংশ নিয়েছিলেন এখানে। সেই প্রতিযোগিতা জেতা হয়নি তাঁর। কিন্তু, এই প্রতিযোগিতাই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মুম্বইয়ে ভাড়া বাড়িতে থেকে লম্বা সময় কঠোর পরিশ্রম করেন। একটা সময় নজরে পড়েন সঞ্জয় লীলা বনশালির। তবুও সংগ্রাম জারি ছিল। গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আগে দীর্ঘ সময় মিউজিক প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করেন। তৈরি করেন নিজের স্টুডিও। এই সময় অরিজিৎ সিং কাজ করেন শঙ্কর এহসান লয়, মিঠুন, প্রীতম, বিশাল শেখরের মতো তাবড় তাবড় শিল্পীদের সঙ্গে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে শিখতে থাকেন। এরপর ব্রেক পান, এবং বাকিটা ইতিহাস!















