মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি অরিজিৎ সিংয়ের করা একটি পোস্ট রীতিমত তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। এমনই তিনি এবং তাঁর গান চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, এবার যেন সেই চর্চার আগুনে ঘৃতাহুতি পড়ল! তাতেই উঠে এসেছে অরিজিৎ সিংয়ের জিয়াগঞ্জের হোটেলের কথা। 

ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়ক তিনি। কয়েক লক্ষ কোটি টাকার মালিক। তবুও অধিকাংশ সময়টাই অরিজিৎ সিং তাঁর জন্মস্থান মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে কাটান। আর এখানেই এই একটি ভাত, মাছের হোটেল চালান। আদতে এই হোটেলটি তাঁর বাবার। কিন্তু সেখানেই মাঝে মধ্যে বসেন গায়ক। করেন হোটেলের কাজকর্ম। 

অরিজিৎ সিংয়ের এই হোটেলের নাম 'হেঁসেল'। না, এখানে কোনও এসি নেই, নেই ভেলভেট কাপড়ে মোড়া সুসজ্জিত সোফা বা ঝাঁ চকচকে টেবিল, ইত্যাদি। রকমারি বা বাহারি প্লেটে খাবারও কায়দা করে পরিবেশন করা হয় না। আমআদমির জন্য এই দোকান। মূলত স্টিলের থালায় খাবার পরিবেশন করা হয়। নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়। দাম? কী ভাবছেন, বলিউড তারকাদের হোটেল রেস্তোরাঁর মতো আকাশছোঁয়া? না, একেবারেই নয়। বরং মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকায় ভরপেট খাবার পাওয়া যায়। 

অরিজিৎ সিং যেমন মাটির মানুষ, তাঁর হোটেলও তেমন। তিনি সংবাদমাধ্যম ডেকে, জাঁকজমক করে কোনও প্রচার ছাড়াই এই হোটেলের উদ্বোধন করেছিলেন। অরিজিৎ সিংয়ের এই হোটেলে মূলত শ্রমিক, ছাত্র, বয়স্করা খেতে আসেন। পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যায়, তাও কম দামে। এই হোটেলটি মূলত অরিজিৎ সিংয়ের বাবা সুরিন্দর সিং চালান। রোজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মূলত বাঙালি এবং পাঞ্জাবি খাবার পাওয়া যায় এখানে। ছাত্ররা ৩০ টাকার বিনিময়ে খাবার পান এবং অন্যান্যরা ৪০ টাকায় খাবার পান। 

মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে অরিজিৎ সিং জানান তিনি প্লেব্যাক সঙ্গীত করবেন না আর। তিনি তাঁর সেই পোস্টে জানান, 'হ্যালো। সবাইকে হ্যাপি নিউ ইয়ার। আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই শ্রোতা হিসেবে এতগুলো বছর ধরে আমায় এত ভালবাসা দেওয়ার জন্য। আমি আনন্দের সঙ্গে এটা ঘোষণা করছি যে প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে আমি আর নতুন কোনও প্রজেক্ট নেব না এখন থেকে। আমি এখানেই ইতি টানলাম। এই সফরটা দুর্দান্ত ছিল।'

এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, 'ফির মহব্বত' গানটি দিয়ে তিনি তাঁর বলিউডে ডেবিউ হলেও, ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া 'আশিকি ২' ছবির 'তুম হি হো' গানটির হাত ধরে তিনি রাতারাতি তারকা বনে যান। এরপর আর তাঁকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। উপহার দিয়েছেন 'অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল', 'আপনা বানালে', 'ভে মাহি', 'গেহরা হুয়া', 'কেশারিয়া', ইত্যাদির মতো একাধিক হিন্দি হিট গান। 'বোঝে না সে বোঝে না', 'কে তুই বল', 'গানে গানে', 'ভালবাসার মরশুম', ইত্যাদির মতো বাংলা গান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।