নিজস্ব সংবাদদাতাঃ কয়েকদিন আগে মুম্বই ছেড়ে সুদূর মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে, অরিজিতের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে হাজির হন আমির খান। প্লে-ব্যাক থেকে অরিজিতের অবসর ঘোষণার পরই তাঁর বাড়িতে অভিনেতার আসা নিয়ে শুরু হয় জোর চর্চা। আর এরই মাঝে এবার অরিজিৎ ও আমিরের বিরুদ্ধে 'বেআইনি' কাজ করার অভিযোগ উঠল। রাতের অন্ধকারে নায়ক ও গায়ক সরকারি কলেজে ঢুকে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান, ব্যাডমিন্টন খেলেন এবং শুটিংও করেন। ক্যামেরাবন্দি সেই সব মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
ঘটনাটি ঘটেছে রানী ধন্যা কুমারী কলেজে। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী। নিজের ফেসবুক পেজে দু'টো ভিডিও 'পোস্ট' করেন তিনি। (যার সত্যতা আজকাল ডট ইন যাচাই করেনি)। সেখানে অধ্যক্ষ অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনও অনুমতি ছাড়াই রাত একটার পর গোটা দশেক মোটরসাইকেল সহ অরিজিৎ সিং এবং আমির খান সরকারি ওই কলেজে প্রবেশ করেছেন, ব্যাডমিন্টন খেলেছেন এবং শুটিং-ও করেছেন।
অভিযোগ, প্রায় এক ঘন্টা কুড়ি মিনিট দলবল সহ অরিজিৎ ও আমির ওই কলেজে সময় কাটান। তারপর রাত ২টো ২৫ মিনিট নাগাদ সেখান থেকে বেরিয়ে যান। অজয়বাবু নিজের সমাজ মাধ্যমের পাতায় ভিডিও সহ এই অভিযোগ 'পোস্ট' করতেই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও কোনও এক 'অজ্ঞাত' কারণে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই ভিডিও এবং সব অভিযোগ সরিয়ে দেন তিনি। সঙ্গে ইংরেজিতে লেখেন, "পোস্টটি ডিলিট করতে বাধ্য হলাম।"
সূত্রের খবর, অজয় অধিকারী সমাজমাধ্যমের পাতায় ৩৫ সেকেন্ড এবং ২৬ সেকেন্ডের যে ভিডিও দু'টি পোস্ট করেছিলেন সেগুলো ওই কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরাতেই ধরা পড়েছে। নিজের প্রথম পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ৩৫ সেকেন্ডের প্রথম ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে রাত ১টা ৫-এর সময় গোটা দশেক মোটরবাইক নিয়ে কলেজে ঢুকছে জনা কুড়ি মানুষ। দ্বিতীয় ভিডিওটি ২৬ সেকেন্ডের। কলেজের ইন্ডোর গেমস হলের বাইরে তারা বাইক রেখে নামছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ১ ঘন্টা কুড়ি মিনিট সকলেই ছিলেন। ব্যাডমিন্টন খেলেছেন, শুটিং করেছেন এবং রাত ২টো ২৫-এ চলে গিয়েছেন।

অরিজিৎ ও আমির খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অজয়বাবু আরও লিখেছিলেন, "আমার প্রশ্ন এত রাতে এইভাবে কলেজের সঙ্গে কোনও কথা না বলে (অনুমতি দূরের কথা) ওঁরা এখানে সামাজিক বা ব্যক্তিগত কাজে নিশ্চিত আসেননি। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন এবং কলেজকে বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করেছেন স্থানীয় নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করে। বিখ্যাত মানুষ বলেই কি তারা সব করতে পারেন? সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি এতটাই অবজ্ঞা করার মত বিষয়?"
অভিযোগ উঠেছে, অজয়বাবু এই অভিযোগ তোলার পরই তাঁর উপর বিভিন্ন মহল থেকে 'চাপ' এবং 'অনুরোধ' আসতে থাকে। অবশেষে নতি স্বীকার করে রাতেই পোস্ট 'ডিলিট' করে দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন অরিজিৎ এবং আমিরের সঙ্গে স্থানীয় কিছু নেতাদেরকেও ওই কলেজে ঢুকতে দেখা গিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা কলেজের অস্থায়ী নাইটগার্ডকে ফোন করে 'চাপ' দিয়ে কলেজের গেট খোলাতে বাধ্য করেছিলেন।
গোটা বিষয়টি নিয়ে শনিবার সকালে কলেজ অধ্যক্ষ অজয় অধিকারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন," বিষয়টি নিয়ে আমি আর এগোতে চাইছি না। আমাদের তরফ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমার করা প্রথম পোস্ট মুছে ফেলার জন্য 'চাপ' এবং 'অনুরোধ' দু'টোই ছিল।"
প্রসঙ্গত, অরিজিতের বাড়িতে আমিরের ঝটিকা সফর নিয়ে নানা জল্পনা দেখা যায়। কেউ বললেন, প্লেব্যাক দুনিয়া থেকে অনেকটাই আড়ালে থাকা অরিজিতের ‘বনবাস’ ভাঙাতেই নাকি হাজির হয়েছেন আমির। আবার কারও দাবি, আমিরের আসন্ন কোনও ছবির জন্য অরিজিতের কণ্ঠ একান্ত প্রয়োজন, সেই অনুরোধ করতেই নাকি গায়ককে সরাসরি ধরতে জিয়াগঞ্জে পৌঁছেছেন বলি সুপারস্টার। তবে পরে জানা যায়, তাঁরা দু'জনে কোনও একটি প্রজেক্টে একসঙ্গে কাজ করছেন। সেই গানের 'রেকর্ডিং' সংক্রান্ত কাজে মুর্শিদাবাদে আসেন বলিউডের 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট'। প্রায় তিন দিন আমির বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ শহরে অরিজিৎ-এর বাড়িতে গিয়ে নিজের প্রোডাকশনের কাজ করেছেন বলে সূত্রের খবর।
মুর্শিদাবাদে থাকাকালীন আমিরকে, অরিজিৎ-এর গানের রেকর্ডিং স্টুডিওর ছাদে দাঁড়িয়ে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি তাঁরা রাতের অন্ধকারে ভাগীরথী বক্ষে নৌকা বিহার করেছেন বলেও সূত্রের খবর। আর এবার প্রকাশ্যে এল অরিজিৎ এবং আমির খানের 'বেআইনি' কাজের একটি ভিডিও।
