টলিপাড়ায় নতুন কাজ করতে আসা প্রতিভাদের কি এভাবেই বঞ্চনার শিকার হতে হয়? অভিনেতা জীতু কামালের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের নীচে এক নবীন চিত্রনাট্যকার তথা অভিনেত্রী অপালা চৌধুরীর পোস্ট ঘিরে এখন উত্তাল স্টুডিও পাড়া। অভিযোগের তির ‘সাই বিঘ্নেশ ফিল্মস’-এর দিকে। জানিয়ে রাখা ভাল, পরিচালক সপ্তাশ্ব বসুর একাধিক ছবিতে চিত্রনাট্য লেখার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন অপালা। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘কিলবিল সোসাইটি’ ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। 

সমাজমাধ্যমে অপালা চৌধুরীর দাবি, কয়েক মাস আগে ‘সাই বিঘ্নেশ ফিল্মস’-এর পক্ষ থেকে তাঁকে দিয়ে একটি গল্পের চিত্রনাট্য তৈরি করানো হয়েছিল। ছবির রেইকি থেকে শুরু করে লুক সেট— সবকিছুই প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁদের পরিবারেরই একজন সদস্য পরিচালনা করবেন এবং তাঁরা সম্পূর্ণ নতুন অন্য একটি গল্প নিয়ে কাজ করবেন। স্বভাবতই তাঁরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ওই চিত্রনাট্যকারের গল্পের কোনও অংশই তাঁরা ব্যবহার করবেন না।

সম্প্রতি জীতু কামালের একটি পোস্ট এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্যদের কাছ থেকে অপালা জানতে পারেন যে, তাঁর দেওয়া গল্পের বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা প্লট পয়েন্ট তাঁকে না জানিয়েই ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এর আগে জিতু কামাল নিজেও এই প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে তাঁর কোনও আর্থিক লেনদেন বা চুক্তি হয়নি, তাই গল্পের একটি লাইন বা ক্যারেক্টার স্কেচ ব্যবহারের অধিকারও তাঁদের নেই। অথচ বারবার মেসেজ করা সত্ত্বেও ওই সংস্থা কোনও উত্তর দিচ্ছে না।

 

 

অপালার এই অভিযোগ চোখে পড়তেই চুপ থাকেননি জীতু। সেই পোস্ট শেয়ার করে অভিনেতা লিখেছেন, “এই রে আমি নাকি টেকনিশিয়ানদের সাথে দুর্ব্যবহার করি! একজন রাইটার, একজন ডিরেক্টর এরাও তো টেকনিশিয়ান। এ তো কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “একজন আর্টিস্টকে শুটিংয়ের শেষ দিনে গালি দিয়ে পুরো টাকা ফেরত চায়, আবার ছবিও নাকি রিলিজ করবে। কী মজা তাই না!আমরা নাহয় পোকামাকড়,যদি এটা কোনও বড়সড় আসন্ন নেতা-অভিনেতার সঙ্গে হত!
তখন!” প্রযোজকদের সংগঠনের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 

 

 

এই ঘটনা আরও একবার টলিউডের সেই পুরনো ক্ষতে নুন ছিটিয়ে দিল, যেখানে নতুনদের মেধা ব্যবহার করে নেওয়ার পর অনেক প্রযোজক সংস্থাই আর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা পারিশ্রমিক দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। এখন দেখার, ‘সাই বিঘ্নেশ ফিল্মস’ বা অভিনেতা জিতু কামালের পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কি না।

 

 

 

&t=2069s