৫ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে কার্যত দাপট দেখাচ্ছে আদিত্য ধর পরিচালিত স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’। রণবীর সিং অভিনীত এই ছবি ইতিমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে সর্বকালের ভারতের সর্বোচ্চ আয় করা প্রথম পাঁচটি ছবির তালিকায়। দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসার মাঝেই এবার ছবিটি নিয়ে নিজের স্পষ্ট ও খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ।

 

 

একদিকে যেমন ছবির নির্মাণশৈলী ও রণবীর সিংয়ের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অনুরাগ কাশ্যপ, তেমনই কয়েকটি সংলাপ নিয়ে নিজের আপত্তির কথাও লুকোননি। তাঁর মতে, “একজন গুপ্তচর বা একজন সেনার শত্রু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্বেষ না থাকলে তার চরিত্র অসম্পূর্ণ। এই জায়গায় আমার কোনও সমস্যা নেই। তবে দু’টি দৃশ্য আমাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, একটি আর. মাধবনের সংলাপ, ‘একদিন এমন সময় আসবে, যখন দেশ নিয়ে ভাববে…’ এবং আরেকটি শেষের দিকে রণবীরের বলা ‘এটা নতুন ভারত’। এই দু’টি বাদ দিলে ছবিটি শুধু ভাল নয়, বরং দুর্দান্ত। বিশেষ করে পুরো ছবিটি পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা, সেটি সাহসী সিদ্ধান্ত।”

 

 

অনুরাগ আরও জানান, আদিত্য ধরকে তিনি নতুন করে চেনেন না। ২০০৯ সালে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘বুন্দ’ থেকেই তাঁদের পরিচয়। তাঁর কথায়, “আদিত্য কোনও সুযোগসন্ধানী নন। এটা তাঁর রাজনীতি।  আপনি একমত হবেন বা নাও হতে পারেন। প্রচণ্ড সৎ ছেলে। বাকিদের মতো ধান্ধাবাজ নয়!  আদিত্য একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত, যিনি নিজে যন্ত্রণা দেখেছেন। তাঁর ছবি সেই অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। নির্মাণে কোনও আপস নেই।”

 

 

তিনি আরও তুলনা টেনে বলেন, ‘দ্য হার্ট লকার’, ‘জিরো ডার্ক থার্টি’-র মতো হলিউডের অস্কারজয়ী ছবিও এক ধরনের প্রোপাগান্ডা। “আমি এখানে দু’টি সংলাপ উপেক্ষা করে নির্মাণের দৃঢ়তা আর একগুঁয়েমিকে উপভোগ করেছি। আর রণবীর সিং... আমার চোখে এই ছবি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। ভীষণ আত্মবিশ্বাসী।”

 

উল্লেখ্য, ‘ধুরন্ধর’ একটি দুই পর্বের সিরিজের প্রথম ছবি। গল্প আবর্তিত এক ভারতীয় গুপ্তচরকে ঘিরে, যে করাচির অপরাধজগত ও রাজনৈতিক অন্দরমহলে ঢুকে পড়ে। ছবিতে ১৯৯৯-এর আইসি-৮১৪ (IC-814) বিমান হাইজ্যাক, ২০০১-এর সংসদ হামলা, ২৬/১১ মুম্বই হামলা ও অপারেশন লিয়ারির মতো বাস্তব ঘটনা গল্পকে আরও বাস্তব ও টানটান করে তুলেছে।

 

 

ছবিতে রণবীর সিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন অক্ষয় খান্না, অর্জুন রামপাল, আর. মাধবন ও সঞ্জয় দত্ত। ‘ধুরন্ধর ২’ মুক্তি পাওয়ার কথা আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬।