বিয়ের দিন কনের সাজে থাকে অনেক আবেগ, অনেক স্মৃতি। সেই আবেগকেই আরও গভীর করে তুললেন বনি কাপুরের বড় মেয়ে অংশুলা কাপুর। নিজের বিয়েতে পরেছিলেন প্রয়াত মা মোনা শৌরি কাপুরের ৪২ বছরের পুরনো একটি ওরনা (দুপট্টা)। সেই মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়ে অংশুলা লিখেছেন, এই দুপট্টা জড়িয়ে থাকাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক এবং আনুন্দের অনুভূতি।

সম্প্রতি নিজের বিয়ের একাধিক ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন অংশুলা। সেখানে দেখা যায়, মেহেন্দি অনুষ্ঠানে তাঁর পোশাকের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মানিয়ে গিয়েছে মায়ের পুরনো দুপট্টাটি। অংশুলা জানান, এই দুপট্টাটি একসময় তাঁর মা মোনা শৌরি কাপুর নিজের বিয়েতে ব্যবহার করেছিলেন। দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে যত্নে রাখা সেই স্মৃতিচিহ্নই এবার মেয়ের জীবনের নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী হল।

ছবির সঙ্গে একটি আবেগঘন নোটও লেখেন অংশুলা। তিনি জানান, বিয়ের দিন তিনি শুধু সুন্দর কোনও পোশাক পরতে চাননি, বরং এমন কিছু নিজের সঙ্গে রাখতে চেয়েছিলেন, যা তাঁকে মায়ের উপস্থিতি অনুভব করাবে। তাঁর কথায়, "যে দুপট্টা একদিন আমার মাকে আগলে রেখেছিল, আজ সেটাই আমাকে জড়িয়ে রাখল। মনে হল, যে মানুষটি আমাকে বড় করে তুলেছেন, তাঁর ভালবাসাই যেন আমাকে ঘিরে রয়েছে।"

মোনা শৌরি কাপুর ২০১২ সালে প্রয়াত হন। সেই সময় থেকেই অংশুলা এবং তাঁর ভাই অর্জুন কাপুর মাকে ছাড়া হারানোর গভীর  মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। তাই জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ দিনে মায়ের স্মৃতিকে এভাবেই নিজের সঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত অনেকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে। অংশুলার পোস্টে অনুরাগীরা যেমন আবেগপ্রবণ মন্তব্য করেছেন, তেমনই বহু বলিউড তারকাও তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দীর্ঘদিনের বন্ধু রোহন ঠাক্করের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অংশুলা কাপুর। বিয়ের প্রতিটি অনুষ্ঠানের ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে জাঁকজমকপূর্ণ সাজ বা গয়নার চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে মায়ের স্মৃতিবিজড়িত সেই ৪২ বছরের পুরনো দুপট্টা। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি পোশাক নয়, বরং মা-মেয়ের অটুট সম্পর্ক, ভালবাসা এবং স্মৃতির এক অনন্য প্রতীক।

অংশুলার এই সিদ্ধান্ত আরও একবার মনে করিয়ে দিল, বিয়ের আসল সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক আয়োজনেই নয়, বরং পরিবারের স্মৃতি, ভালবাসা এবং আবেগে লুকিয়ে থাকে। তাই মায়ের রেখে যাওয়া সেই দুপট্টা জড়িয়ে নতুন জীবনের পথে হাঁটার মুহূর্তটি অংশুলার কাছে আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।