৯ জানুয়ারি মুক্তি পেয়েছে ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’। মুখ্য চরিত্রে অঙ্কুশ হাজরা এবং তাঁর প্রেমিকা ঐন্দ্রিলা সেন। তবে অঙ্কুশ শুধু এই ছবির নায়ক নন, প্রযোজকও বটে। অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেইনমেন্টের সঙ্গে যৌথভাবে এই ছবির প্রযোজনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। ফলে দায়িত্বও বেড়েছে বহুগুণ।

ছবিমুক্তির এক দিনের মধ্যেই অনুরাগীদের উদ্দেশে হাতজোড় করে বিশেষ আবেদন জানালেন অঙ্কুশ। তাঁর অনুরোধ, সকলে যেন হলে গিয়ে ছবিটি দেখেন। ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ মুক্তির কথা ছিল ২৩ জানুয়ারি। তবে নির্ধারিত দিনের আগেই দর্শকের সামনে হাজির করেছেন ছবিটি। কারণ অকারণ প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়তে তিনি একেবারেই আগ্রহী নন। দর্শকের ভালবাসা আর সরাসরি প্রতিক্রিয়াকেই তিনি বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, “সরস্বতী পুজোয় এই ছবি রিলিজের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু সেটা হল না। সেটা দুঃখজনক ব্যাপার ছিল। কিন্তু আমি সকলের মধ্যে মারামারি, চুলোচুলিতে যেতে চাইনি। অনেকেই বলছে, এই সময়টা ছবিমুক্তির জন্য ভাল নয়। কিছুটা মানছি, কিছুটা মানছি না। কিন্তু ভাল ছবি যদি প্রেক্ষাগৃহে দেখা না হয়, তা হলে আমার মতো অনেক নতুন প্রযোজক ছবি বানানোর সাহস পাবে না।”

বক্স অফিসের ‘অস্বাস্থ্যকর’ প্রতিযোগিতা নিয়েও মুখ খুলেছেন অঙ্কুশ। অনেক সময়ই অভিযোগ ওঠে যে, প্রযোজকরা নিজেই নিজের ছবির টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহ ভরিয়ে প্রচার করছেন। এটাই নাকি দর্শক টানার অন্যতম কায়দা। অঙ্কুশের কথায়, “আমার অর্গ্যানিক অডিয়েন্স প্রয়োজন। কারণ আমার দ্বারা টিকিট কেটে হল ভরানো সম্ভব নয়। আমার সেই সামর্থ্যও নেই। আমি ওটা পারব না। আমি ‘মির্জা’র বেলাতেও পেরে উঠিনি। তোমরা নিজেরাই দেখেছ। তাতে ভাল ব্যবসা হয়েছে। এবারও পারব না। যা টাকা ছিল, সব এই ছবিতেই লাগিয়ে দিয়েছি। কারণ আমার আলাদা কোনও বাজেট ছিল না, যা দিয়ে হলে লোক পাঠাব। আমার দ্বারা এই ভুয়ো কাজকর্ম হবে না।”

অঙ্কুশের কথায়, দর্শক যদি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে তাঁর ছবি দেখেন, তবেই সেটিকে সরস্বতী পুজো পর্যন্ত হলে ধরে রাখা সম্ভব হবে। দর্শকের সমর্থনই যে ছবির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, সে কথাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেতা।

ছবিমুক্তির আগেই থানায় ছুটতে হয়েছে অঙ্কুশ এবং ঐন্দ্রিলাকে। শোনা যাচ্ছে, চারু মার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান তাঁরা।

বৃহস্পতিবার নেটমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন অঙ্কুশ। সেখানে নবীনা প্রেক্ষাগৃহের সামনে লাগানো অঙ্কুশ এবং ছবির নায়িকা ঐন্দ্রিলার একটি বিশাল কাটআউটকে ভাঙাচোরা অবস্থায় রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কাটআউটটির অবস্থা দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়, এটি নিছক দুর্ঘটনায় নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই নষ্ট করা হয়েছে। সেই দৃশ্য নেটমাধ্যমে শেয়ার করে ক্ষোভ উগরে দেন নায়ক। লেখেন, ‘মানুষ মানুষের ক্ষতি করে কী আনন্দ পায় কে জানে । নারী চরিত্র বেজায় জটিলের ৩০ ফুটের কাট আউট এই ভাবে নষ্ট করে দেওয়া হল নবীনা হলের সামনে। অবাক লাগে ভাবলে কোন জগতে আমরা বসবাস করছি।’