উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ঝোরা, মেঘে ঢাকা ‘পাপরখেতি’ আর এক ঝাঁক তেইশ-তিরিশের তরুণ-তরুণী— এই প্রেক্ষাপটেই ফের একবার ধরা দিলেন অঞ্জন দত্ত। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই -এর জনপ্রিয় ফুড ও ট্রাভেল শো ‘ভোজনবিলাসী’-র দ্বিতীয় সিজনের একটি বিশেষ পর্বের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তাঁকে। আর দার্জিলিংমানেই তো বাঙালির কাছে অঞ্জন দত্ত! তাই এই অঞ্জন-সফর কেবল একটি শো-এর শুটিং হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সমাজমাধ্যমে নিজে সেই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অঞ্জন। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে মিরিক বা লেপচা জগতে শুটিং হওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ বেছে নেওয়া হয় লাভা-র কাছে মনোরম গ্রাম পাপরখেতি। ডিরেক্টর সায়ন্তন এবং তাঁর টিম যখন অঞ্জনকে বললেন পিচ্ছিল পাথর ডিঙিয়ে ঝোরার ধারে নেমে সহ-অভিনেতা সোমকের সঙ্গে কথা বলতে, শুনে প্রথমে কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী শিল্পী। কিন্তু ইউনিটের জেদ আর এনার্জি দেখে তিনি আর না করতে পারেননি। চামড়ার বুট পরেই সাবধানে নেমে এলেন নীচে। শুট শেষে যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন পুরো ইউনিট যেন উৎসবে মেতে উঠল।
শুটিংয়ের পুরো সময়টা ছিল বৃষ্টির দাপট। মেঘ-বৃষ্টির সঙ্গেই চলেছে ৩টি ডিএসএলআর ক্যামেরা আর ল্যাপেল মাইকের কসরত। লাঞ্চের সময় জুটল স্থানীয় শেফ গায়ত্রীর হাতের জাদুকরী রান্না— ‘খাসি কো মাসু’ (খাসির মাংস) আর ‘নেপালি থুপকা’। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে পলিথিন শিটের নিচে বসে সেই খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা অঞ্জনকে মনে করিয়ে দিল কেন তিনি এই পেশায় এসেছিলেন। তাঁর মতে, বাজেট কম না কি বেশি সেটা বড় কথা নয়, কাজের প্রতি ভালবাসাই শেষ কথা।
মৃণাল সেন থেকে সৃজিত মুখোপাধ্যায়— সবার সঙ্গেই অভিনেতা হিসেবে কোনওদিন কোনো অভিযোগ করেননি অঞ্জন। তবে ইদানীং কিছু নবীন পরিচালকের প্রস্তুতিহীনতায় তিনি বিরক্ত হতেন। কিন্তু ‘ভোজনবিলাসী’-র এই তরুণ টিম অঞ্জনকে নতুন করে আশার আলো দেখাল। দিনভর বৃষ্টির মধ্যেও তাঁদের ‘কন্টিনিউটি’ বা কাজের শৃঙ্খলায় কোনও ভুল হয়নি। শুটিং শেষে রিসর্টে ফিরে ভদকার গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে অঞ্জন দত্ত অনুভব করলেন— এই তরুণ তুর্কিরাই হল বাংলা ছবির জগতের আসল শক্তি। আরও ভাল করে বললে, নবীন প্রজন্মের এই হার না মানা মানসিকতাই আসলে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ।
&t=4s
















