৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় বাংলার জয়জয়কার! এবারের আসরে বাংলা ছবির মুকুটে যুক্ত হল নতুন পালক। জাতীয় স্তরে নিজেদের ছাপ রেখে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছে দুটি ছবি—পরিচালক অঞ্জন দত্তের ‘চালচিত্র এখন’ (chaalchitra ekhon) এবং সৌরভ পালোধি পরিচালিত ‘অঙ্ক কি কঠিন’ (Onko Ki Kothin)। এই খবরে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত বাংলার সিনেপ্রেমী মানুষ।

মৃণাল সেনের জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অঞ্জন দত্ত তৈরি করেছিলেন ‘চালচিত্র এখন’। মৃণাল সেনের জীবন ও কাজের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিতে পরিচালক নিজেই কিংবদন্তি এই নির্মাতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। প্রযোজনার পাশাপাশি ছবির সঙ্গীতের দায়িত্বে ছিলেন অঞ্জন-পুত্র নীল দত্ত। ছবির মুখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছিল অভিনেতা শাওন চক্রবর্তীকে।

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির পর কেমন অনুভূতি অঞ্জন দত্তের? আজকাল ডট ইন-কে তিনি বলেন, "খুব ভাল লাগছে। এত বড় একটা সম্মান প্রাপ্তি, খুবই ভাল লাগছে। আমি তো খবরটা অনেক পরে পেয়েছিলাম। তার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই দেখছি অনেকের ফোন আসছে‌। তারপর জানতে পারি বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি পেয়েছে আমার ছবি, আমাদের ছবি। সত্যি কথা বলতে, একটা এক্সপেক্টেশন থেকেই পাঠিয়েছিলাম ছবিটা।"

শাওনকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন? অঞ্জন দত্তর কথায়, "অবশ্যই। ও খুব ভাল ছেলে, বুদ্ধিমান ছেলে‌। এটা ওর প্রথম ছবি ছিল। এখন বেছে বেছে কাজ করে। অনেক দূর যাবে শাওন।" মৃণাল সেনের জীবনী নিয়ে তৈরি ছবি, তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রয়াসে তৈরি। আজকের দিনে কতটা মনে পড়ছে? একটু থেমে অঞ্জন দত্ত বলেন, "মৃণালদা আজ বেঁচে থাকলে খুব মজা পেতেন। খুব মজার মানুষ ছিলেন তো‌। আসলে আমি কখনও ওঁকে দেবতুল্য স্থানে বসাইনি, আমার কাছে তিনি অভিভাবকের মতো‌। খুব কাছ থেকে দেখেছি, চিনেছি ওঁকে। তাই জানি, সবকিছুর বাইরে গিয়ে কতটা মজার মানুষ ছিলেন। আমার ছবিতেও ওঁর অজানা দিকটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। এটা তো আমাদের নিজস্ব প্রোডাকশন। একদম ঘরের টাকায় তৈরি ছবি যাকে বলে। প্রথমদিকে সিনেমাহলে সেভাবে ছাপ ফেলেনি ছবিটা। পরে অবশ্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। আমার বিশ্বাস মৃণালদা এই প্রাপ্তিতে খুব আনন্দ পেতেন।"