অর্ডার করলেই ফটাফট খাবার, ওষুধ কিংবা জামাকাপড় সোজা চলে আসছে ঘরের দোরগোড়ায়। কিন্তু এই চরম সুবিধার আড়ালে আপনার অজান্তেই কি ওত পেতে বসে আছে কোনও বড়সড় বিপদ? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজ কিন্তু সেই লাল সংকেতই দিচ্ছে। একটু অসাবধানতা যে কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই ঘটনা।

ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, একটি বাড়ির দরজায় পার্সেল নিয়ে হাজির হয় এক ডেলিভারি বয়। বেল বাজাতেই ঘরের ভেতর থেকে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে এক নাবালিকা। জিনিসপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার পর, আচমকাই সুর বদল করে সেই ডেলিভারি বয়। ডেলিভারির প্রমাণ হিসেবে ‘জিনিসের ছবি তুলতে হবে’— এই বাহানা দিয়ে সে সটান বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে! সম্ভবত সে ভেবেছিল, নাবালিকা মেয়েটি বাড়িতে একাই রয়েছে। আর এই সুযোগটাই সে নিতে চেয়েছিল।

কিন্তু ডেলিভারি বয়ের সেই চাল সম্পূর্ণ ভেস্তে যায়। সে ঘরের ভেতরে পা বাড়াতেই পেছন থেকে গর্জে ওঠেন মেয়েটির মা। চিৎকার করে তিনি বলে ওঠেন, "ভাই, এক্ষুনি বাইরে যান... বাইরে যান!" কথাটি বলার সাথেই তিনি এক ঝটকায় মেয়েটিকে ভেতরে টেনে নেন এবং ঘরের দরজা শক্ত করে বন্ধ করে দেন। বেগতিক বুঝে ডেলিভারি বয়টি ঘাবড়ে গিয়ে বাইরে থেকে আমতা আমতা করে বলে, "ম্যাডাম, আমি তো শুধু একটা ফটো তুলতে চেয়েছিলাম।" ভেতর থেকে কড়া গলায় পাল্টা জবাব আসে, "ফটো তোলার হলে দরজার বাইরে থেকেই তুলুন!"

 

?ref_src=twsrc%5Etfw">July 18, 2026

 

 

ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের একটাই প্রশ্ন— যদি সেদিন বাড়িতে মা উপস্থিত না থাকতেন, তবে কী হতো? এক্স হ্যান্ডেলে একজন লিখেছেন, "ডেলিভারি প্রুফ বা অন্য কোনও অজুহাতে কখনওই কোনও অচেনা মানুষকে বিশ্বাস করবেন না। কার মনে কী মতলব আছে, কেউ জানে না।" অন্য একজন লিখেছেন, "সামনের মানুষটি দেখতে যতই ভাল বা ভদ্র হোক না কেন, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।"

অনলাইন পরিষেবার যুগে বাড়ির নিরাপত্তা এখন সবথেকে সংবেদনশীল বিষয়। অচেনা কোনও ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত না করে ঘরের দরজা খোলা বা তাঁদের ঘরের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া যে কত বড় ভুল, তা আরও একবার প্রমাণ করল এই ঘটনা। (উল্লেখ্য, সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। তবে এই ভিডিওটি আমাদের সমাজকে এক মস্ত বড় শিক্ষা দিয়ে গেল— আপনার দরজার সুরক্ষা শুধুই একটি বিকল্প নয়, এটি জীবন বাঁচানোর অন্যতম প্রধান শর্ত!