জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মঞ্চে ফের একবার জ্বলজ্বল করে উঠল বাঙালি মেধার নাম। পরিচালক অমর্ত্য ভট্টাচার্যের ঝুলিতে এল তাঁর কর্মজীবনের দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার। ওড়িয়া ছবি ‘লহরী’ -র জন্য এই বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। আর অমর্ত্যর এই সাফল্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগে ভাসলেন বাংলার রকস্টার রূপম ইসলাম। অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি বাণিজ্যিক সিনেমার চেনা ছক এবং সেন্সরশিপের জুজু নিয়ে একহাত নিলেন ফসিলস-এর ফ্রন্টম্যান।

ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে রূপম ইসলাম লেখেন, অমর্ত্য চলচ্চিত্রে যা নিয়ে আসেন, তা হল এক সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। আজকের যুগে এই ধরনের মননশীলতার বড়ই অভাব। রূপমের স্পষ্ট বক্তব্য, “দর্শকদের পছন্দ হবে কি?— বাণিজ্যিক এই ক্ষুদ্র ভাবনা দ্বারা সে কখনই পরিচালিত না।” ছবি বিক্রির সস্তা ফর্মুলায় বিশ্বাস করেন না অমর্ত্য। আর তাই রূপমের চোখে, “সংক্ষেপে বলা যায়, অমর্ত‍্যর মতো পরিচালকদের প্রযোজক হওয়া যায়, পরিচালক হওয়া যায় না।”

জাতীয় স্তরের এই আনন্দঘন মুহূর্তেই রূপমের কলমে উঠে এল একরাশ আক্ষেপ। পরিচালক হিসেবে অমর্ত্য যে কতটা মেধাবী, তা খুব কাছ থেকে দেখেছেন রূপম। নিজের একক অ্যালবাম ‘আমি’-র দায়িত্ব তিনি নিজে ভরসা করে তুলে দিয়েছিলেন অমর্ত্যর হাতে। যার ফসল ছিল আন্তর্জাতিক স্তরে সাড়া জাগানো ছবি ‘সন অফ অ্যাডাম’ , যার নিবেদক বা প্রেজেন্টার ছিলেন স্বয়ং রূপম।

বিশ্বের দরবারে এই ছবি বিপুল সমাদর পেলেও, ভারতের সাধারণ দর্শক ছবিটি দেখার সুযোগ পাননি। কেন? রূপম ক্ষোভ ও আক্ষেপ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “আক্ষেপ, ‘সন অফ অ্যাডাম’ ভারতের দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারেনি সেন্সরশিপের কারণে। ছবিটা এখানকার মানুষ দেখতে পারলে ভাল লাগত।” তবে আশা হারাননি রকস্টার। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনও না কোনও দিন ভারতের মানুষ এই মাস্টারপিসটি দেখতে পাবেন।

অমর্ত্যর মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের মেধা যে রূপমের কাজকে নিয়মিত ও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করেন, তা নিজের পরম সৌভাগ্য বলে মনে করেন গায়ক। অমর্ত্যর এই দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার জয় আগামী দিনে তাঁকে আরও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রাণিত করবে বলেই আশাবাদী রূপম। পোস্টের শেষে পরিচালকের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি লেখেন, “অভিনন্দন অমর্ত্য! সামনে আরও অনেক পথ, আরও অনেক সিনেমা!”