সময়টা ১৯৭১। হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ‘গুড্ডি’ ছবির সেট। ১০-১২ দিনের শুটিং শেষ করে ফেলেছেন এক লম্বা রোগা যুবক। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই ছবি থেকে বাদ পড়লেন তিনি। কেরিয়ারের সেই ধাক্কাই কি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ে এল বসন্ত? জয়া বচ্চনের ৭৮তম জন্মদিনে বিগ বি-র ব্লগ আর ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’-র মঞ্চে উঠে এল সেই অমর প্রেমকাহিনীর নতুন কিছু অধ্যায়।


৯ এপ্রিল। জয়া বচ্চনের ৭৮তম জন্মদিন। মুম্বইয়ের ব্যস্ততা থেকে দূরে দিনটি কাটিয়েছেন বচ্চন দম্পতি। তবে ভক্তদের ভালবাসাকে উপেক্ষা করেননি শাহেনশা। নিজের ব্লগে অমিতাভ লিখেছেন, “শুভেচ্ছাবার্তার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। সবাইকে আলাদা করে জবাব দেওয়া সম্ভব নয়, তাই এটাকে আমার ব্যক্তিগত উত্তর হিসেবেই গ্রহণ করবেন।” জন্মদিন মানেই যে হুল্লোড়, তা নয়। অমিতাভের কলমে উঠে এল এক গভীর জীবনদর্শন। তিনি দিনটিকে বর্ণনা করেছেন ‘শান্ত দিন এবং শান্ত ভাবনা’ হিসেবে। তাঁর মতে, বর্ণনামূলক কথার চেয়ে মাঝে মাঝে এই নিস্তব্ধ ভাবনার মূল্য অনেক বেশি।

 

তবে ‘জঞ্জির’ ছবির সেট নয়, অমিতাভ-জোয়ার প্রেম শুরু অন্য কোথাও! সম্প্রতি ‘কেবিসি ১৭’-র মঞ্চে অমিতাভকে এক দর্শক প্রশ্ন করেন, তাঁদের প্রেম কি ‘জঞ্জির’-এর সেটেই শুরু? অমিতাভ রহস্যময় হাসি হেসে জবাব দেন, “এটা একটা পারিবারিক শো, সেটা মাথায় থাকুক । তবে আপনার তথ্যটা কিন্তু একদম ভুল!”

তবে ‘বিগ বি’ কিন্তু ফাঁস করেছেন সেই গোপন তথ্য। অনেকেই ভাবেন ‘জঞ্জির’ (১৯৭৩) তাঁদের প্রেমের শুরুয়াত, কিন্তু আসলে সেই ম্যাজিক ঘটেছিল আরও দু’বছর আগে। ‘গুড্ডি’ ছবিতে অমিতাভই ছিলেন প্রথম পছন্দ। কিন্তু ‘আনন্দ’ হিট হওয়ার পর পরিচালক হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় মনে করেছিলেন, অমিতাভ আর সেই চরিত্রের জন্য উপযুক্ত নন। ফলে তাঁর জায়গায় আসেন ধর্মেন্দ্র। কিন্তু ওই ১০-১২ দিনের শ্যুটিংয়ের মধ্যেই জয়ার সঙ্গে প্রথম দেখা হয়ে গিয়েছিল অমিতাভের।


স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে অমিতাভ কিছুটা লাজুক সুরেই বলেন, “জয়ার সঙ্গে ওখানেই প্রথম দেখা। কিন্তু তারপর ঠিক কী হয়েছিল, তা আমি এখানে বলতে পারব না!” ‘শাহেনশা’র এই রহস্যময় হাসি আর অসমাপ্ত বাক্যই বলে দিচ্ছিল, রূপোলি পর্দার বাইরেও তাঁদের রসায়ন কতটা গভীর।

কেরিয়ারের শুরুর সেই ‘প্রত্যাখ্যান’ যে আসলে অমিতাভের জীবনে জয়াকে এনে দিয়েছিল, তা আজ পরিণত হয়েছে বলিউডের সবচেয়ে বড় কিংবদন্তিতে। ৭৮-এ দাঁড়িয়ে জয়া বচ্চন আজও অমিতাভের জীবনের সেই ‘শান্ত ভাবনা’, যাঁর ব্যক্তিত্বের জৌলুস গোটা বচ্চন পরিবারকে আজও আগলে রেখেছে।