ছোটপর্দার জনপ্রিয় গেম শো ‘হুইল অফ ফরচুন’-এর সাম্প্রতিক পর্বে এক আবেগঘন মুহূর্তে বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে সরব হলেন অভিনেতা অক্ষয় কুমার। উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের উপর হওয়া বৈষম্যের অভিজ্ঞতা শোনার পর প্রকাশ্য মঞ্চেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
এই গেম শো-র সেই পর্বে অংশ নেওয়া এক প্রতিযোগী জানান, মুম্বইয়ে থাকার সময় তাঁর মুখের গড়নের কারণে তাঁকে প্রায়ই কটূক্তির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকে তাঁকে “চীনে ফিরে যাও” বলেছে, আবার কেউ কেউ করোনা ছড়ানোর দায়ও তাঁর উপর চাপিয়েছে।
আর এই অভিজ্ঞতা যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তা বোঝাতে অক্ষয় তাঁর মেকআপ আর্টিস্ট কিনকে মঞ্চে ডাকেন। জানিয়ে রাখা ভাল, কিন আদতে মণিপুরের বাসিন্দা। মঞ্চে উঠে এসে কিনও জানান, চেহারার জন্য তাঁকে বারবার “চাইনিজ”, “চিঙ্কি” বা “মোমো” বলে বিদ্রুপ করা হয়েছে।দর্শকদের উদ্দেশে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আকশ্য বলেন, “এই ছেলেটি আমার সঙ্গে কাজ করে, আমার মেকআপ করে, পাশাপাশি আমার খেয়ালও রাখে। ওর নাম কিন।”
কিনের কথা শোনার পর অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আজ কিনের অভিজ্ঞতা শুনে আমি নিশ্চিত, এই ঘটনা সত্যিই ঘটে। আমি দেশের প্রতিটি মানুষকে বলতে চাই, উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়। কিন্তু তাঁরা সবাই ভারতীয়! যতটা আমি, আপনি বা এখানে বসে থাকা প্রত্যেকে ভারতীয়।”
This is why he’s called the People's Superstar. Standing up for North Indians and calling out the divide... Akshay sir, you have my respect forever 🙏✨ #WheelOfFortune @akshaykumar pic.twitter.com/QAXySmbYDF
— Vedika (@kaalajaadu___)Tweet by @kaalajaadu___
এরপর তিনি দেশের প্রতি ওই অঞ্চলের অবদানও স্মরণ করান। নাগা রেজিমেন্টের সাহসিকতা থেকে শুরু করে কার্গিল যুদ্ধ ও বাংলাদেশ যুদ্ধ -সব ক্ষেত্রেই তাঁদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, অভিনেতার কথায়, “ওরা দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে। ওরা ভারতীয়, এটা মনে রাখুন।”
দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে নানা ঘরানার ছবিতে অভিনয়ের পর এবার আবার টেলিভিশনে সঞ্চালকের ভূমিকায় ফিরেছেন আকশ্য। বড় পর্দায় তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে। যেমন ‘ধড়কন’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘হাউজফুল’ কিংবা ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’।
&t=313s
এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত তিনি। সামনে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর নতুন ছবি ‘ভূত বাংলা’ ও ‘হেওয়ান’।
এই পর্বের সেই কয়েক মিনিটই যেন মনে করিয়ে দিল, বিনোদনের মঞ্চ কখনও কখনও সামাজিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা হয়ে উঠতে পারে।
