তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে কাজ করছেন অক্ষয় কুমার। কিন্তু এক সময় তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, হয়তো তাঁর কেরিয়ার সেখানেই শেষ হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অভিনেতা স্বীকার করেন, এক হাই প্রোফাইল পার্টিতে রাগের মাথায় তিনি এক ব্যক্তিকে কষিয়ে চড় মারেন এবং সেই বিরাশি সিক্কার চড় খেয়েই সেই ব্যক্তি ঐখানেই অজ্ঞান হয়ে যান! 

সম্প্রতি অক্ষয় সঞ্চালিত রিয়ালিটি শো হুইল অফ ফরচুন-এর একটি বিশেষ পর্বে উপস্থিত ছিলেন সার্ক ট্যাঙ্ক খ্যাত আমন গুপ্ত,অনুপম মিত্তল এবং নমিতা থাপার। কথোপকথনের সময় আমন অক্ষয়কে প্রশ্ন করেন, জীবনের সবচেয়ে বড় ‘অদ্ভুত অপমানের’র মুহূর্ত কোনটি অক্ষয়য়ের কাছে।

সেই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে অতীতে ফিরে যান অক্ষয়। তিনি জানান, এক বন্ধুর সঙ্গে একটি বিরাট বড় পার্টিতে গিয়েছিলেন, যেখানে হঠাৎই এক ব্যক্তির উত্তপ্ত তর্ক শুরু হয়। এক ব্যক্তি তাঁর বন্ধুকে বারবার অশালীন ভাষায় গালাগাল দিতে থাকেন। অক্ষয় সেই ব্যক্তিকে বারবার সতর্ক করলেও পরিস্থিতি থামেনি। অভিনেতার কথায়, “আমি ওকে বারবার বলছিলাম থামতে, কিন্তু সে থামেনি। ব্যাপারটা খুবই ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছিল। আমার বন্ধুকে এমন নোংরা ভাষায় অপমান করা হচ্ছিল যে শেষমেশ আর সহ্য করতে পারিনি।”

এরপর রাগের মাথায় অক্ষয় ওই ব্যক্তিকে চড় মারেন, এবং ওই এক চড়েই সেই ব্যক্তিটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। ওইখানেই!  সম্বিৎ ফিরলে মুহূর্তের মধ্যেই ভয় পেয়ে যান অক্ষয়। কারণ ওই ব্যক্তির যদি বড় কোনও বিপদ ঘটে, তাহলে তাঁর কেরিয়ারও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। অক্ষয় বলেন,“ওটা খুব বড় পার্টি ছিল। আমার বন্ধু লজ্জায় কেঁদে ফেলেছিল। আমরা জল ঢেলে লোকটাকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করছিলাম, আর আমি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছিলাম যেন সে জ্ঞান ফিরে পেয়ে উঠে বসে।” শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি জ্ঞান ফিরে পান।  

 

&t=313s

 

স্মৃতির সরণির দিকে ফিরে তাকিয়ে অক্ষয় আরও বললেন,“আজ হলে আমি কখনও এমন প্রতিক্রিয়া দেখাতাম না। এটা আমার জীবনের এমন একটা মুহূর্ত, যেটা বদলাতে পারলে বদলাতাম। ওই ব্যাপারটি আজকের দিনে হলে আমি সেখান থেকে সোজা হেঁটে বেরিয়ে যেতাম। ওই জায়গাটি ছেড়েই বেরিয়ে চলে আসতাম।”

এইমুহূর্তে কাজের দিক থেকে সামনে অক্ষয়ের হাতে রয়েছে একাধিক ছবি। পরিচালকপ্রিয়দর্শনের ভূত বাংলা  ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে, যেখানে অভিনয় করছেন পরেশ রাওয়াল ও ওয়ামিকা গাব্বি। এছাড়াও তাঁর তালিকায় রয়েছে ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ এবং ‘হেওয়ান’।