বিজ্ঞাপনে শাহরুখ খান কিংবা দীপিকা পাড়ুকোনকে প্রচার করতে দেখে, সেই সংস্থার ঝাঁ চকচকে গাড়ি কিনেছেন, অথচ কেনার পরই সেই গাড়ির অন্দরের জিনিসপত্র একের পর এক বিগড়ে যাচ্ছে— এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বড়জোর সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন। কিন্তু রাজস্থানের এক হাই-প্রোফাইল আইনজীবী যা করলেন, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে গোটা নেটপাড়ার! গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য তার নির্মাতা সংস্থা তো বটেই, সঙ্গে তাদের বিজ্ঞাপনে অভিনয় করা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোন-এর নামেও সটান মামলা ঠুকে দিয়েছেন তিনি!

এক্স -এ ‘প্রথম খন্না’ (@Portfolio_Bull) নামের এক ইউজারের পোস্টের মাধ্যমে এই অদ্ভুত ও নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটদুনিয়ায় তীব্র বিতর্ক ও হাসির রোল উঠেছে।


ভাইরাল হওয়া পোস্ট অনুযায়ী, রাজস্থানের বাসিন্দা কীর্তি সিং নামের ওই আইনজীবী প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি ব্র্যান্ড নিউ ‘হুন্ডাই আলকাজার এসইউভিগাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু গাড়িটি কেনার পর থেকেই তিনি বেশ কিছু মারাত্মক যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হন, যা ওঁর নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছিল:


ইঞ্জিনের তীব্র কম্পন: গাড়ি স্টার্ট দিলেই ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক ভাইব্রেশন বা কম্পন হচ্ছিল।

পাওয়ার লস: এক্সিলারেটর বা গতি বাড়ানোর সময় আচমকা গাড়ি ওঁর শক্তি বা ‘পাওয়ার’ হারিয়ে ফেলছিল।

ওভারটেকিং রিস্ক: রাস্তায় অন্য কোনও গাড়িকে ওভারটেক করার সময় ইঞ্জিন ঠিকমতো রেসপন্স করছিল না, যা যেকোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারত।

আইনজীবী কীর্তি সিং হুন্ডাই কোম্পানির কাছে একাধিকবার এই নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানালেও কোনও সন্তোষজনক সমাধান পাননি। এর পরই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর এই মামলায় হুন্ডাই কোম্পানির পাশাপাশি বলিউড বাদশা শাহরুখ খান এবং দীপিকা পাড়ুকোনকে জড়ানোই ছিল সবচেয়ে বড় টুইস্ট। কীর্তি সিংয়ের যুক্তি— এই তারকারা যেহেতু গাড়ির ব্র্যান্ডটির প্রচার করেছেন এবং ওঁদের মুখ দেখেই মানুষ প্রভাবিত হয়ে গাড়ি কিনছেন, তাই পণ্যের খারাপ পারফরম্যান্সের দায় ওঁদেরও নিতে হবে।

এই খবর ভাইরাল হতেই এক্স  হ্যান্ডেলে কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। নেটিজেনরা মূলত দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছেন:

 

 

এক ইউজার কীর্তি সিংয়ের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে হিন্দি প্রবাদ টেনে লিখেছেন, “কখনও কখনও সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করতে হয়। এবার নিশ্চয়ই হুন্ডাই কোম্পানি কীর্তি সিংকে সঠিক সমাধান দেবে।” অন্য একজন লিখেছেন, “শাহরুখ-দীপিকারা টাকার লোভে যা ইচ্ছে বিজ্ঞাপনে বলে দেন, ওঁরদের অবশ্যই ‘মিথ্যা বিজ্ঞাপন’ বা ফলস অ্যাডভার্টাইজিংয়ের জন্য দায়ী করা উচিত।”

অন্যদিকে রসিকতা করে একজন লিখেছেন, “ভাবুন একবার, গাড়ি কিনে আপনি শাহরুখ আর দীপিকার সঙ্গে আইনি যুদ্ধে জড়িয়ে গেলেন! এটা তো গাড়ির ওনার্স ম্যানুয়ালে লেখা থাকে না।” আবার অনেক গাড়িপ্রেমী এই আইনজীবীর অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, “ইঞ্জিন ভাইব্রেশন আর পাওয়ার লস? মনে হচ্ছে কেস নেই বলে আইনজীবীরা খামোখাই কোম্পানির নামে মনগড়া কেস ঠুকে দিয়েছেন।”


আইন কী বলছে? সংস্থার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডররা কি সত্যিই দায়ী সংস্থার পণ্যের গাফিলতির জন্য?

এই মামলার আইনি দিকটি নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “কনজিউমার লায়াবিলিটি এবং বিজ্ঞাপনী এনডোর্সমেন্ট আইন অনুযায়ী ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরদের নামে অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব। তবে আদালত খতিয়ে দেখবে এটি কি বিভ্রান্তিকর প্রচারের অপরাধ না কি ম্যানুফ্যাকচারিং বা উৎপাদনগত ত্রুটি? গাড়ির ইঞ্জিনের ভেতরের পার্টস খারাপ হলে তার দায় সাধারণত অভিনেতাদের ওপর বর্তায় না।” 

বলিউডের দুই মেগাস্টারকে আইনি নোটিশের ঘেরাটোপে ফেলার এই দুঃসাহসিক ঘটনা আজ ২০২৬ সালেও ভারতের গ্রাহক সুরক্ষা আইনের ইতিহাসে এক অত্যন্ত চর্চিত বিষয় হয়ে রইল।