তিনি বলিউডের ‘খিলাড়ি’। পর্দার দুর্ধর্ষ সব স্টান্ট নিজেই করতে ভালবাসেন অক্ষয় কুমার। কিন্তু সেই সাহসিকতাই একবার তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতের তৎকালীন সবচেয়ে ব্যয়বহুল ছবি ‘ব্লু’-র শুটিংয়ে ঘটেছিল সেই হাড়হিম করা ঘটনা। মাঝসমুদ্রে সাক্ষাৎ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ফিরেছিলেন অভিনেতা। প্রায় ৪৫টি হাঙরের মাঝখানে রক্তে ভেজা অক্ষয়! আজও সেই স্মৃতি ভাবলে শিউরে ওঠে বলিউড। ঢোঁক গেলেন অক্ষয় নিজেও।
গল্প নয়, বাস্তবেই ঘটেছিল এমনটা। সমুদ্রের প্রায় ১৫০ ফুট গভীরে কোনও অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়াই শুটিং করছিলেন অক্ষয়। একটি ডুবে যাওয়া জাহাজের খোলের ভেতর স্টান্ট করার সময় আচমকাই সেখানে থাকা লোহার পাতের সঙ্গে ধাক্কা লাগে তাঁর মাথায়। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর সেই ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বেরোতে শুরু করে। আর সেই রক্তের গন্ধ পাওয়া মাত্রই বদলে যায় সমুদ্রের নিচের পরিবেশ।

অক্ষয় জানান, “রক্তের গন্ধে চারপাশ থেকে প্রায় ৪০-৪৫টি হাঙর আমায় ঘিরে ফেলেছিল। একটা-দুটো হাঙর তো সরাসরি আমার দিকেই তেড়ে আসছিল!” এমন পরিস্থিতিতে যে কেউ আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন, কিন্তু অক্ষয় জানতেন, ভয় পেলেই মৃত্যু নিশ্চিত। সেই ভয়াবহ স্নায়ুযুদ্ধের বর্ণনায় অক্ষয় জানান, হলিউডের নামী সিনেমাটোগ্রাফার পিট জাকারিনি এবং জেমস বোমালিক তখন তাঁর সঙ্গেই ছিলেন। তাঁরা যথাসাধ্য সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু জলের নীচে হাঙরের আক্রমণ ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। পরিস্থিতি বুঝে অক্ষয় অসীম ধৈর্য দেখান। তিনি জানতেন, হাত-পা ছুড়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করলে তা দেখে হাঙররা আরও উত্তেজিত হবে। তাই প্রচণ্ড রক্তপাত আর অসহ্য যন্ত্রণা চেপে রেখে ধীরস্থিরভাবে সমুদ্রের উপরিভাগে উঠে আসেন তিনি।

সঞ্জয় দত্ত, লারা দত্ত এবং ক্যাটরিনা কইফের মতো তারকাখচিত ‘ব্লু’ বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু এই ছবি অক্ষয়কে দিয়ে গিয়েছিল এক নতুন জন্ম। অভিনেতা পরে স্বীকার করেছেন, সেই মুহূর্তে বিপদের গভীরতা বুঝতে না পারলেও, উপরে উঠে আসার পর তাঁর হাত-পা কাঁপতে শুরু করেছিল। সেদিন স্রেফ উপস্থিত বুদ্ধি আর অদম্য জেদই তাঁকে নিশ্চিত মৃত্যুর গ্রাস থেকে ছিনিয়ে এনেছিল। ‘খিলাড়ি’-র কেরিয়ারে এই ঘটনা আজও এক রোমহর্ষক অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে।
&t=2069s















