২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনি বিপাকে জড়িয়েছেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চ্যাটার্জি, স্বস্তিকা মুখার্জি। সেবার বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের ভরাডুবি হলেও এবার ভোটের ফল একেবারে বদলে গিয়েছে। বিপুল আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৫ বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিলীপ ঘোষের পুরনো বক্তব্য টেনে পোস্ট করেছিলেন পরমব্রত। তিনি লিখেছিলেন, ‘আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষিত হোক।’ আর এই মন্তব্য ঘিরেই গত ২৪ ঘণ্টা যাবৎ শাসক-বিরোধী পক্ষের নানা মন্তব্য উঠে এসেছে। যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পল। 

রাজ্যের শিশু ও সমাজ কল্যাণ এবং পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী বলেন, "২০২১ সালে আমাদের প্রায় ১০ হাজার মহিলা-পুরুষ কার্যকর্তাদের ঘরছাড়া করা হয়েছিল। বাড়ি-ঘরদোর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যাঁরা মাছের ব্যবসা করেন, তাঁদের পুকুরে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কৃষকদের ধানক্ষেত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সার্বিকভাবে বিজেপি কর্মীদের সামাজিক বয়কট করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, মন্দির যেতে পারবে না, জল নিতে পারবে না, কেউ অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে পারবে না, গ্রামের শ্মশান ব্যবহার করতে পারবে না। সেই প্রেক্ষিতে আমরা যাঁরা সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের মনটা অনেক বেশি খোলামেলা। তাই তাঁরা যদি কেউ বলে রগরানি দিবস তাহলে সেটা দুর্ভাগ্যজনক।"

রাজ্য-রাজনীতিতে পালাবদলের আবহে বিগত দিন কয়েক ধরেই টলিপাড়ার অন্দরে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। একে অপরকে কর্দয্য মন্তব্য করতে ছাড়ছেন না অনেকেই। তারকাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থেকে বদলে যাওয়া দর্শন, সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে সবই। সেই প্রেক্ষিতেই সোশাল পাড়ার অভিধানে ‘পাল্টিবাজ’, ‘পরজীবী’ থেকে ‘সুবিধেবাদী’র মতো শব্দগুলো সাম্প্রতিককালে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। যে প্রসঙ্গে নাম উঠে এসেছে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের। 

২০২৬ সালে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন পরমব্রত। যদিও বিজেপির জয়ের পর সুর নরম করেন অভিনেতা। এমনকী তিনি নাকি সন্তানের মুখ চেয়ে নাকি পূর্বতন সরকারের সঙ্গে আপোস করেছেন! স্পষ্ট জানিয়েছেন, "সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করেছিলাম।" 

এপ্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা বলেন, "আমাদের অধ্যক্ষ মহাশয় এবং মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তৃণমূল থেকে বা অন্য দল থেকে কোনও লোকজনকে নেওয়া হবে না। পাপিয়া দি, আমাদের নেত্রীও বলেছেন, যাদের জন্য আমরা ১৫ বছর কাজ পাইনি, তাঁরা সেই সময় তৃণমূলকে এবং তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষদের অন্যয়গুলো সমর্থন করেছিলেন। তাঁরা যদি আবার আমাদের সমর্থন করে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা অন্যায়।"

একইসঙ্গে বিজেপি নেত্রীর সংযোজন, "যাঁরা তৃণমূলে আছেন, তাঁরা সম্মানের সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পাশে থাকুন। তাতে মানুষের কাছে আপনাদের সম্মান বাড়বে যে আপনারা মমতা ব্যানার্জিকে ছাড়েননি। কিন্তু যে দল আসবে তার দিকে চলে আসা এটা খুব সুবিধাবাদী।"