এখন চারিদিকে 'ধুরন্ধর ২' ঝড়। বক্স অফিসও একপ্রকার উত্তাল। এর মাঝেই ছবির প্রথম ভাগের ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের পিছনের গল্প ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে অভিনেতা অক্ষয় খান্নার চরিত্রের মৃত্যু দেখানো হচ্ছিল। সূত্রের খবর, এই দৃশ্যটিকে পর্দায় বাস্তবসম্মত করে তোলার জন্য আদিত্য ধর অন্য অভিনেতাদের উদ্দেশ্যে এক চরম নির্দেশ জারি করেন।

'ধুরন্ধর' ছবির শেষের দিকে অক্ষয় খান্নার অভিনীত 'রহমান ডাকাত' চরিত্রটির মৃত্যু ছিল এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই দৃশ্যটি থেকেই শুরু হয় 'ধুরন্ধর ২'-এর গল্প। সম্প্রতি অভিনেতা রজত অরোরা এবং বিক্রম ভাম্বরি এই বিশেষ দৃশ্যটি নিয়ে পরিচালক আদিত্য ধরের নির্দেশনার কথা স্মৃতিচারণ করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে রজত বলেন যে, তিনি আদিত্যকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে কান্নার দৃশ্যের জন্য তাঁকে কন্ট্যাক্ট লেন্স খুলতে হবে কি না, কারণ লেন্স পরে কাঁদা কঠিন। পরিচালক তাঁকে বলেছিলেন যে রহমান ডাকাত তাঁদের কাছে বাবার মতো। নিজের বাবা মারা গেলে একজন মানুষের যেমন অনুভূতি হয়, ঠিক সেই আবেগটুকুই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে হবে। আদিত্যর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে, ফ্রেমের মধ্যে থাকা প্রত্যেককে এমনভাবে অভিনয় করতে হবে যেন তাঁদের খুব কাছের কেউ মারা গিয়েছেন। রজত আরও জানান যে সহ-অভিনেতা দানিশের থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন, কারণ দানিশ 'ইমোশনাল' দৃশ্যের পর স্বাভাবিক হতে বেশ সময় নিতেন এবং চরিত্রের সেই ঘোরের মধ্যেই থাকতেন।

অন্যদিকে বিক্রম ভাম্বরি জানান যে, শুটিংয়ের দিন সকালেই তাঁরা চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে বুঝেছিলেন যে আজ রহমান ডাকাতের মৃত্যু দৃশ্যের শুটিং হবে। তিনি জানান, চিত্রনাট্য পড়ার পর সেই বিশেষ মানসিক অবস্থায় বা 'জোনে' পৌঁছানো খুব জরুরি ছিল। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন কান্না বা আবেগ খুব বেশি চড়া না হয়, আবার একদম কমও না থাকে। অদ্ভুত ব্যাপার, এই দৃশ্যটি ফুটিয়ে তোলার জন্য তাঁরা কোনও গ্লিসারিন ব্যবহার করেননি; যা কিছু ছিল সবই ছিল আসল আবেগ।