গত বছর বড়পর্দায় মুক্তি পেয়েছিল সলমন-রশ্মিকার ‘সিকান্দর’। দীর্ঘ দু’বছর পর বড়পর্দায় ‘সিকান্দর’ নিয়ে ফিরেছিলেন সলমন খান। ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’-এর ভরাডুবির পর টাইগার’-এর এই ছবি নিয়ে ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু পুরোপুরি আশাহত করেছে এই ছবি, দর্শকের মনে একেবারেই দাগ কাটেনি। সহজ কথায়, বক্স অফিসে ভরাডুবি হয় ‘সিকান্দর’-এর। পরে এক সাক্ষাৎকারে এই ছবির ব্যর্থতার দায় খোলাখুলিভাবে নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন ছবির পরিচালক এ আর মুরুগাদোস। স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, এ ছবির ব্যর্থতার দায় বর্তায় পুরোপুরি তাঁর উপর। এবার মুখ খুললেন ছবির প্রধান অভিনেত্রী রশ্মিকা মন্দনা।
দুর্বল চিত্রনাট্য, মুখ্য জুটির রসায়নের অভাব, সব মিলিয়ে ‘সিকান্দর’কে ঘিরে সমালোচনার ঝড় থামেনি। এবার সেই ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খুললেন রশ্মিকা নিজেই। তবে তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট, ছবির যে গল্প শুনে তিনি রাজি হয়েছিলেন, শুটিং শেষ হতে হতে সেই গল্পটাই আর ছিল না! এক সাক্ষাৎকারে রশ্মিকা বলেন, “ ‘সিকন্দর’-এর কথা বেশ ভালভাবেই মনে আছে। মুরুগাদোস স্যারের সঙ্গে ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে কথা হয়েছিল। তবে পরে যা হয়েছিল, সেটা একেবারেই আলাদা… আমি যে চিত্রনাট্যটা শুনেছিলাম, সেটা সত্যিই এর থেকে অন্যরকম ছিল।”
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী আরও যোগ করেন, “সাধারণত ছবির ক্ষেত্রে এটা হয়। আপনি যখন গল্প শোনেন, তখন সেটা একরকম থাকে। কিন্তু বানানোর সময় পারফরম্যান্স, সম্পাদনা, মুক্তির সময়-এই সবকিছুর উপর নির্ভর করে অনেক কিছু বদলে যায়। এটা খুবই স্বাভাবিক। ‘সিকন্দর’-এর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।”
রশ্মিকার এই মন্তব্যের একটি ক্লিপ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। আর তাতেই ফের জোরালো হয়েছে আলোচনা। কেউ তুলেছেন সলমন-রশ্মিকার রসায়নের প্রসঙ্গ, কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, “আরও শক্তিশালী চরিত্র পেলে কি ছবির ভাগ্য বদলাতে পারত?”
এক নেটিজেনের সাফ মন্তব্য, “রসায়ন ছিল শূন্য, তাই বাকিটা নিয়ে ভাবারই দরকার নেই।” আরেকজন আরও কড়া ভাষায় লেখেন, “এই বিপর্যয় বাঁচানোর মতো কিছুই ছিল না। সলমনের অভিনয় আলসেমিতে ভরা, একেবারেই আগ্রহহীন লাগছিল। উপরন্তু রশ্মিকার সঙ্গে ওর জুটি পুরো বাবা-মেয়ের জুটির মতো দেখাচ্ছিল। তার সঙ্গে ‘লাগ যা গলে’-র সেই ভয়াবহ রিমেক...শুরু থেকেই ছবির ভবিতব্য লেখা ছিল।” আরও একজন লেখেন, “নাচ-গান ছিল সংলাপের থেকেও বড়। তবে আশীর্বাদই বলা যায়, খারাপ ছবিতে বেশি কিছু বলার সুযোগই পেল না।
তবে ভিন্ন সুরও শোনা গেছে। এক দর্শকের মতে, “আমি ভাবি, রশ্মিকার চরিত্রটা আদতে কেমন হওয়ার কথা ছিল। ছবি দেখার সময় মনে হয়েছে, ওঁর জন্য একটা শক্তিশালী চরিত্র লুকিয়ে ছিল কোথাও।”
২০২৩ সালের পর ‘সিকন্দর’এর মাধ্যমে বড়পর্দায় সলমন খানের প্রত্যাবর্তন হলেও এ ছবি বক্স অফিস থেকে দর্শকের মন -কিছুই জয় করতে পারেনি। প্রায় ন’ বছর পর হিন্দি ছবিতে ফিরেছিলেন পরিচালক এ আর মুরুগাদোস। ছবির গল্পে সলমন অভিনীত রাজকোটের রাজা সঞ্জয় রাজকোট ওরফে সিকন্দর-এর। স্ত্রী সাইশ্রীর (রশ্মিকা) মৃত্যুর পর মুম্বইয়ে তিনজন মানুষকে রক্ষা করার মিশনে নামেন, যাঁরা তাঁর স্ত্রীর অঙ্গদানের প্রাপক। পাশাপাশি মোকাবিলা করতে হয় এক প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতিবিদের। প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবি বিশ্বজুড়ে আয় করতে পেরেছে মাত্র ১৮৫ কোটি টাকা, স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী।
মজার বিষয়, বিগ বস ১৯-এর এক পর্বে কমেডিয়ান রবি গুপ্ত যখন সলমনকে তাঁর কেরিয়ারের অনুশোচনার ছবির নাম জানতে চান, অভিনেতা পুরনো দু’টি ছবির নাম নেন, ‘সূর্যবংশী’ (১৯৯২) ও ‘নিশ্চয়’ (১৯৯২)। সলমনের কথায়, “নতুন ছবিগুলোর মধ্যে কোনওটাই নয়। লোকে বলে সিকন্দর, কিন্তু আমি মানি না। ছবির প্লট খুব ভাল ছিল।”
তবু দর্শক ও বক্স অফিস দু’জায়গাতেই ‘সিকন্দর’ যে মুখ থুবড়ে পড়েছে, তা নিয়ে তর্কের অবকাশ কম। ছবিতে ছিলেন সত্যরাজ, কাজল আগরওয়াল, প্রতীক বব্বর ও শর্মন যোশী কিন্তু তাতেও ভাগ্য বদলায়নি।
