মহারাষ্ট্রের পুনে জেলার লোনাভলার কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গ এইমুহূর্তে এক অদ্ভুত কারণে দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশবাসীকে নাড়িয়ে দেওয়া হাই-প্রোফাইল ‘কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলা’-র তদন্ত যত এগোচ্ছে, এই দুর্গে সাধারণ মানুষের ভিড় ততই বাড়ছে।
2
8
জানা গেছে, এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর থেকে লোহাগড় দুর্গে পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে! তবে অবাক করার মতো বিষয় হল— ইতিহাস দেখতে নয়, অধিকাংশ পর্যটকই দুর্গে এসে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে একটিই খোঁজ করছেন, “খুনের সেই জায়গাটা ঠিক কোথায়?” দুর্গের যে স্থানটি থেকে কেতনকে নিচে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, পর্যটকেরা এখন মুখে -মুখে সেই জায়গার নাম দিয়েছেন ‘সিয়া স্পট’ বা ‘সিয়া পয়েন্ট’!
3
8
কেতন-হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত যুবতী সিয়া গোয়েল এবং ওঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে পরিকল্পনা করে কেতন আগরওয়ালকে পুনের এই দুর্গে ঘুরতে নিয়ে এসেছিলেন। সেখানে দুর্গের একটি খাড়া অংশ থেকে কেতনকে নিচে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত মূল নারী চরিত্রের নাম অনুসারেই নেটিজেন ও কৌতূহলী পর্যটকেরা জায়গাটিকে ‘সিয়া পয়েন্ট’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন।
4
8
খবর, এই মামলার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই লোহাগড় দুর্গে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এককালে যা ছিল স্রেফ একটি জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য, তা এখন জনস্বার্থ এবং তীব্র কৌতূহলের এক ‘ক্রাইম সিন’ বা অপরাধের স্পটে পরিণত হয়েছে।
5
8
সাধারণত সপ্তাহান্তে (শনি ও রবিবার) বা সরকারি ছুটির দিনগুলোতে লোহাগড় দুর্গে দৈনিক ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ পর্যটকের সমাগম হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেতন আগরওয়াল মামলার পর থেকে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও দুর্গে একই রকম উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। পর্যটকদের মূল আকর্ষণই হল ওই তথাকথিত ‘সিয়া পয়েন্ট’। সেখানে দাঁড়িয়ে অনেকেই ছবি ও সেলফি তুলছেন।
6
8
ঐতিহাসিক একটি দুর্গের নাম এভাবে একটি নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জুড়ে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুর্গ ইতিহাসবিদেরা। ‘লোহাগড় ভিসাপুর বিকাশ মঞ্চ’-এর শচীন টেকওয়াড়ে এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এমন একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই ধরনের অপরাধ ঘটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং একইসঙ্গে বিরক্তিকর। তার চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হল, লোহাগড় দুর্গকে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের ট্রোল, মিম এবং জোকস তৈরি করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনাকে হালকাভাবে নেওয়া বা মশকরা করা হলে এই ঐতিহ্যবাহী স্মৃতিস্তম্ভের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।”
7
8
লোনাভলার সহ্যাদ্রি পর্বতমালায় অবস্থিত এই দুর্গটি মহারাষ্ট্রের অন্যতম সেরা ঐতিহ্যবাহী স্থান। ‘লোহাগড়’ শব্দের অর্থ হল ‘লোহার কেল্লা’, যা ওঁর দুর্ভেদ্য গঠনকে নির্দেশ করে। ইতিহাস অনুযায়ী, এই দুর্গের বয়স প্রায় ২,০০০ বছর। ধারণা করা হয়, সাতবাহন রাজবংশের আমলে এই দুর্গের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। পরবর্তীকালে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের ইতিহাসেও এই দুর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
8
8
মহারাষ্ট্রের মাভাল অঞ্চলে অবস্থিত এই কেল্লাটি লোনাভলা থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার এবং পুনে শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ওঁর নিকটবর্তী রেলওয়ে স্টেশন হলো ‘মালাভলি’। পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত সহজগম্য এই প্রাচীন নিদর্শনটি এখন খবরের শিরোনামে কেবলই একটি খুনের বিষয়ে কৌতূহলকে কেন্দ্র করে।