এই মুহূর্তে টলিউড থেকে রাজনৈতিক মহল— সব জায়গাতেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার মাত্র মাস দুয়েকের মধ্যেই পদ থেকে ওঁর ইস্তফা দেওয়ার খবর সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। জানা যাচ্ছে, ইমেল মারফত নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন অভিনেত্রী। তবে কোয়েলের এই ইস্তফাপত্র আদৌ দল বা রাজ্যসভা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে এখনও তীব্র ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। রাজনৈতিক এই ঝোড়ো আবহের মাঝেই কোয়েল কিন্তু এই মুহূর্তে শহর থেকে দূরে, সাতসমুদ্র পাড়ে মার্কিন মুলুকে ছুটি কাটাচ্ছেন।
দেশ জুড়ে ওঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তুমুল চর্চা চললেও, রঞ্জিত-কন্যা কোয়েল এই মুহূর্তে আমেরিকার নামি শহরগুলোতে সপরিবারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শহর ছাড়ার সময় বিমান থেকেই ‘Enroute USA!’ লিখে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ওঁর বিদেশ সফরের কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কোয়েলের সঙ্গে এই সফরে গিয়েছেন ওঁর বাবা রঞ্জিত মল্লিক এবং মা দীপা মল্লিকও।
আমেরিকা সফরের বস্টন পর্ব চুকিয়ে এবার নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে আপনমনে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল অভিনেত্রীকে। একেবারে ‘ফ্যাশনিস্তা’ অবতারে, কাঁধে টোট ব্যাগ ঝুলিয়ে বিদেশিদের সাথে রাস্তা পার হওয়া থেকে শুরু করে টাইমস স্কয়ারের বিখ্যাত সব বিলবোর্ডের সামনে পোজ দিয়েছেন কোয়েল। প্লেনের বিজনেস ক্লাসে ট্রাভেল করার সেলফি থেকে শুরু করে আমেরিকার নানা মুহূর্তের ছবি সমাজমাধ্যমের পাতায় ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি। তবে ওঁর এই সফর যতটা আকর্ষক, ওঁর আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ততটাই রহস্যময়।
কখনও প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য না করা কোয়েল যখন এই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, এপ্রিল মাসে তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যেতে রাজি হন, তখন ওঁর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে অনুরাগী— সকলেই বিস্মিত হয়েছিলেন।উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস যে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল, তাতে বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে নাম ছিল অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়ে আপ্লুত কোয়েল বলেছিলেন, “অনেক ভেবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তা নয়। এটা একটা মহৎ দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা। এর থেকে তো বড় মহৎ কাজ হতে পারে না৷ সেই জায়গা থেকে আমি নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবতী মনে করি।”
কিন্তু সেই ‘মহৎ দায়িত্ব’ পাওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় হঠাৎ কেন তিনি ইমেল মারফত ইস্তফা পাঠালেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে মস্ত বড় প্রশ্ন চিহ্ন। এই বিষয়ে কোয়েল মল্লিক এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেননি।
রাজনীতিতে ওঁর এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই ওঁর ফিল্মি কেরিয়ারও কিন্তু বেশ চর্চায়। কোয়েলকে শেষবার রুপোলি পর্দায় দেখা গিয়েছে অরিন্দম শীল পরিচালিত গোয়েন্দা থ্রিলার ‘মিতিন: একটি খুনির সন্ধানে’ সিনেমায়, যা গত পুজোয় মুক্তি পেয়ে বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। এর আগে ২০২৫ সালে ওঁর অভিনীত ‘স্বার্থপর’ এবং ‘সোনার কেল্লায় যকের ধন’ সিনেমাতেও ওঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।
এখন দেখার, আমেরিকা সফর শেষ করে দেশে ফিরে কোয়েল ওঁর এই আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে মুখ খোলেন কি না।















