বলিউড সুপারস্টার আমির খান বিমানে ওঠার আগে নাকি একটা চিঠি লিখে রাখেন। আর সেই চিঠির কথা এতদিন গোপনেই ছিল। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আমির জানান, বিমান দুর্ঘটনার ভয়ে তিনি সবসময় তাঁর খুড়তুতো ভাই, পরিচালক মনসুর খানের জন্য একটি চিঠি লিখে রাখেন। আমিরের ভয়, তাঁর অনুপস্থিতিতে যেন তাঁর ছবির কাজ থমকে না যায় বা নষ্ট না হয়।

আমির জানান, ছবির শুটিং শেষ হওয়ার পর যখন পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ চলে, তখনই তিনি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন। মনসুর খানের সৃজনশীল দক্ষতার ওপর আমিরের অগাধ আস্থা। এমনকী তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী কিরণ রাওকেও তিনি এই ব্যবস্থার কথা জানিয়ে রেখেছেন।

আমির এই গোপন বিষয়টি নিয়ে বলেন, "শুটিং শেষ হয়ে যখন সিনেমা ফাইনাল পোস্ট-প্রোডাকশনের পর্যায়ে থাকে, তখন বিমানে ওঠার আগে আমি সবসময় মনসুরকে একটা চিরকুট লিখি। আমার খুব দুশ্চিন্তা হয় যে, যদি বিমানটা ক্র্যাশ করে বা আমার কিছু হয়ে যায়? আমি চাই না আমার সিনেমাটা নষ্ট হোক। তাই আমি পরিচালককে বলি মনসুরের পরামর্শ নিতে, আর মনসুরকেও অনুরোধ করি সবটা সামলে নিতে। প্রতিবার বিমানে ওঠার আগে আমি এটা করি।"

আমির আরও বলেন, "মনসুর এমন একজন মানুষ যার সহজাত প্রবৃত্তির ওপর আমার পুরো আস্থা আছে। আমি কিরণকেও অনেকবার বলেছি, যদি আমার কিছু হয়ে যায়, তবে যেন মনসুরকে দিয়ে সবকিছু একবার চেক করিয়ে নেওয়া হয়।"

প্রসঙ্গত, মনসুর খান ও আমির খান একসঙ্গে উপহার দিয়েছেন ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ (১৯৮৮), ‘জো জিতা ওহি সিকান্দার’ (১৯৯৪) এবং ‘অকেলে হাম অকেলে তুম’ (১৯৯৫)-এর মতো কালজয়ী সিনেমা। ২০০০ সালে ‘জোশ'-এর পর মনসুর পরিচালনা থেকে দূরে সরে গেলেও আমিরের কাছে তিনি এখনও সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। আমির জানান, যখনই কোনও নতুন টিম বা নতুন অভিনেতাদের নিয়ে তিনি কাজ করেন, তখন সৃজনশীল সাহায্যের জন্য তিনি মনসুরকেই পাশে চান।

২০০৮ সালে ‘জানে তু ইয়া জানে না’-তে তিনি মনসুরকে সৃজনশীল প্রযোজক হিসেবে এনেছিলেন। সম্প্রতি তাঁর ছেলে জুনেইদ খান ও সাই পল্লবী অভিনীত ‘এক দিন’ ছবির ক্ষেত্রেও তিনি একই পথ বেছে নিয়েছেন।