আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবারের ভোটে কল্পতরু হয়েছেন প্রার্থীরা। প্রচারে বেরিয়ে কেউ দাড়ি কেটে দিচ্ছেন, কেউ ঘুঁটে দিচ্ছেন ঘরের পাঁচিলে। কেউ দাঁড়িয়ে থেকে মিস্ত্রি সাজছেন, কেউ জামাকাপড় ইস্ত্রি করে দিচ্ছেন।ঠিক তেমনই ঘটল পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষে।

 

ভোটের প্রচারে প্রার্থীদের নানা রকম চমকপ্রদ উদ্যোগ নতুন কিছু নয়। কখনও রান্না করা, কখনও ঘুঁটে তৈরি, আবার কখনও জমির কাজে অংশ নেওয়ার মতো দৃশ্য এর আগেও দেখা গিয়েছে। এবার সেই ধারাতেই ধাড়া বাবু। খণ্ডঘোষ বিধানসভায় আবার সেই ছবিই সামনে এল।

খণ্ডঘোষের বিজেপি প্রার্থী গৌতম ধাড়া প্রচারে বেরিয়ে সরাসরি রাজমিস্ত্রির কাজে হাত লাগালেন। তিনি সগড়াই অঞ্চলের বিভিন্ন বুথে প্রচার করছিলেন। প্রচারের মাঝেই একটি বাড়ি তৈরির কাজ চলতে দেখে ‌সেখানে থেমে যান এবং হাতে কুর্নিশ তুলে নিয়ে নির্মাণকাজে অংশগ্রহণ করেন।

প্রচারের ফাঁকেই তিনি জানান, “আমি এস.সি সম্প্রদায়ের গরিব পরিবারের ছেলে। ছোটবেলা থেকেই খেটে খাওয়া আমার অভ্যাস। কোদাল চালানো থেকে শুরু করে নানা ধরনের কাজ করতে পারি, সবসময় কাজের মধ্যেই থাকতে ভালবাসি।” তিনি আরও বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর লক্ষ্য। “মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকব,”—এই বার্তাও দেন তিনি।

প্রার্থী দাবি করেন, তিনি “১০০ শতাংশ খণ্ডঘোষ বিধানসভা এলাকা 'কভার' করবেন”। প্রথমে বাঁকুড়ার ইন্দাস থেকে আসায় তাঁকে বহিরাগত বলে দেগে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বাহিনী। এবারে তাদের পাল্টা চাপে ফেলছেন এই তরুণ।

এছাড়াও, প্রচারের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে আশীর্বাদও প্রার্থনা করেন। তিনি জানান, কখনও পায়ে হেঁটে, আবার কখনও গাড়িতে চড়ে এলাকায় ঘুরে ঘুরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করছেন এবং তাঁদের সমর্থন চাইছেন।

নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই খণ্ডঘোষ বিধানসভায় প্রচারের চিত্র হয়ে উঠছে আরও জমজমাট।এলাকায় রাজনৈতিক মহলের একটি সূত্র জানায়, শাসকের ঘরে ধুন্ধুমার 'কোন্দল'-এর ফয়দা তুলতে মরিয়া বিরোধীরা।