আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যজুড়ে ভোটের দামামা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। আর সেই ভোট যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়, তার জন্য নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা রাজ্যকে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন করা হচ্ছে আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। সব মিলিয়ে রেকর্ড ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

কমিশন সূত্রে খবর, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের আর্জি মেনেই এই বিপুল পরিমাণ বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি।

জানা গিয়েছে, ৫টি পর্যায়ে ধাপে ধাপে রাজ্যে প্রবেশ করবে বাহিনী। আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে প্রথম দফায় ৩০০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে ঢুকে পড়বে। এরপর ৭, ১০, এবং ১৩ই এপ্রিলের মধ্যে দফায় দফায় আরও প্রায় ৮৭৭ কোম্পানি জওয়ান মোতায়েন করা হবে।

শেষ ধাপে অর্থাৎ ১৭ই এপ্রিলের মধ্যে সবথেকে বড় অংশটি (৭৪৩ কোম্পানি) অসম থেকে সরাসরি বাংলায় এসে পৌঁছাবে।

এই সুরক্ষা বলয়ে থাকবে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি -র জওয়ানরা। এছাড়াও থাকবে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, রাজস্থান ও কেরলের মতো ভিন রাজ্যের কেন্দ্রীয় বাহিনী। মূলত এলাকা দখল ঠেকানো, ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং বুথ ও স্ট্রং রুমের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন তাঁরা।

কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের হিংসা রুখতে এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে কমিশন। ২৯শে এপ্রিল ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে গেলেও সমস্ত বাহিনীকে তৎক্ষণাৎ ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। ৫০০ কোম্পানি বাহিনী ভোট-পরবর্তী হিংসা দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত রাজ্যেই মোতায়েন থাকবে।

২০০ কোম্পানি জওয়ান ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত ইভিএম এবং স্ট্রং রুম পাহারা দেওয়ার গুরুদায়িত্ব সামলাবেন। গোটা প্রক্রিয়ার তদারকির জন্য সিআরপিএফ-এর আইজি শালভ মাথুরকে 'স্টেট ফোর্স কোঅর্ডিনেটর' হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। জওয়ানদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার জন্য রেল বোর্ডকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।