আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ জেলায় তথা রাজ্যে বড়সড় ধাক্কা লাগলো কংগ্রেসে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থেকে নির্বাচিত প্রাক্তন কংগ্রেস জেলা পরিষদ সদস্য তথা বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক এবং রাজ্য যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি আসিফ ইকবাল কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন। সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে বাংলা নববর্ষের বিকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেবেন আসিফ।
কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন আসিফ। বুধবার দুপুরে আজকাল ডট ইনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আসিফ বলেন,"আমি বর্তমানে কলকাতায় রয়েছি। অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে আমার একাধিকবার কথাও হয়েছে। আজ বিকালে পৈলানে অনুষ্ঠিত অভিষেক ব্যানার্জির রাজনৈতিক একটি কর্মসূচিতে আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করব। আমি মুর্শিদাবাদে ফেরার পর আরও বহু কংগ্রেস কর্মী তৃণমূলে যোগ দেবেন।"
রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য আসিফ ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন। যদিও কংগ্রেস দল তাঁকে 'প্রতীক' দেয়নি। তাঁর পরিবর্তে ফরাক্কা আসন থেকে এবছর কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাহাতাব শেখ। যদিও মাহতাবের নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। এসআইআর ট্রাইবুনালে জরুরি শুনানির পর মাহতাবের নাম ভোটার তালিকায় ওঠে এবং তারপরেই তিনি কংগ্রেসের 'প্রতীক' পান।
ফরাক্কার পাঁচবারের কংগ্রেস বিধায়ক প্রয়াত মইনুল হকের ভাইপো আসিফ মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন "দলের মধ্যে বহু বঞ্চনার শিকার হয়েও এতদিন আমি কংগ্রেসকেই বুকে আগলে রেখেছিলাম।"
আসিফ অভিযোগ করেন, "মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেস এখন প্রদেশ নেতৃত্ব বা সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কথায় চলে না। এই জেলায় অধীর চৌধুরী যা সিদ্ধান্ত নেন বাকি সকলকে সেটা মেনে নিতে হয়। জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীর কোনও ক্ষমতাই নেই। ব্লক স্তর থেকে শুরু করে অঞ্চল স্তর পর্যন্ত সমস্ত সিদ্ধান্তই অধীর চৌধুরী নেন।"
প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক আসিফ অভিযোগ করেন,"মুর্শিদাবাদ জেলায় টাকার বিনিময়ে সংগঠনে জায়গা পাওয়া যায়। মেধার জায়গা দখল করেছে টাকা।"
আসিফ আরও বলেন,"গোটা রাজ্যে আমাদের মূল লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে। কিন্তু এসআইআর-এর মাধ্যমে যখন মুর্শিদাবাদ জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হয়েছে তখন রাহুল গান্ধী প্রচারে নামেননি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব আমাকে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী হিসেবে বেঁচেছিলেন। কিন্তু অধীর চৌধুরী নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আমাকে কংগ্রেসের টিকিট দেননি।"
আসিফের আরও অভিযোগ, "কী কারনে অধীরবাবু, মাহাতাব শেখকে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী করেছেন তা এলাকার সকলেই জানেন। "
রাজ্য যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি আসিফ বলেন, "কোনও কিছুর বিনিময়ে আমি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছি না। অভিষেক ব্যানার্জি নেতৃত্বে ফরাক্কায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন জোরদার করতে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উন্নয়নের কাজ আমার এলাকায় যাতে আরও ত্বরান্বিত হয় সেই কারণেই তৃণমূলে যোগদান।"















