আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে জমে থাকা অভিমান যেন গলিয়ে দিলেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি। দীর্ঘদিনের অভিমান সরিয়ে প্রবীণ তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ অবশেষে হাজির হলেন দলনেত্রীর সভামঞ্চে। শুক্রবার কোচবিহার রাসমেলার মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় তাঁর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। এদিনের সভামঞ্চ থেকেই মমতার স্পষ্ট বার্তা, “রবীন্দ্রনাথ ঘোষ আমার পুরনো দিনের সহকর্মী। এখনও দায়িত্বে আছে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছে পরিষ্কার করে দেন, রবির গুরুত্ব এখনও অটুট।
এক সময় কোচবিহারের রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্যতম মুখ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। দীর্ঘদিন তিনি জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন এবং নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে দু’বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় সমীকরণে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন তিনি।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় দলের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। নিজেও কিছুটা অভিমান করে সক্রিয় প্রচার থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন রবি। ফলে এই পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন অনেকেই। তবে, মমতার কোচবিহার সফরেই বদলে যায় পরিস্থিতি। শুধু সভামঞ্চে উপস্থিত থাকাই নয়, তার আগে দলনেত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকও করেন রবীন্দ্রনাথ। সূত্রের খবর, মমতার গাড়িতেই তিনি সভাস্থলে পৌঁছন। যদিও সেই বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক এবং রবির প্রত্যাবর্তন তৃণমূলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে কোচবিহারের মতো জেলায় যেখানে স্থানীয় নেতৃত্বের প্রভাব যথেষ্ট, সেখানে অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয়তা দলকে সংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহারে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রবীন্দ্রনাথকে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২০২১ সালে আবার তাঁকে নাটাবাড়ি থেকে প্রার্থী করা হলেও জয় পাননি। পরে পুরসভা নির্বাচনে জিতে পুরপ্রধান হন, কিন্তু কয়েক মাস আগে সেই পদ থেকেও তাঁকে সরানো হয়। এই পরিস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে দলনেত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে সেই জট কাটল বলেই মনে করছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
সব মিলিয়ে, কোচবিহারের সভামঞ্চে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের প্রত্যাবর্তন শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, সংগঠনের ভিত মজবুত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ঐক্যের বার্তা ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।















