আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন তপ্ত। নির্বাচন কমিশন দিনক্ষণ ঘোষণা করার পর থেকেই প্রতিটি দল ঝাঁপিয়ে পড়েছে নির্বাচনী প্রচারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৩৮ নম্বর ক্যানিং পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রেও শুরু হয়েছে ত্রিমুখী-চতুর্মুখী লড়াই। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেস, আইএসএফ, এসইউসিআই—সবাই নিজেদের কৌশল নিয়ে মাঠে নামলেও, এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী পরেশ রাম দাস নিজের ব্যতিক্রমী প্রচার পদ্ধতির জন্য ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
বিগত দিনে এই কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পরেশ রাম দাস। দলের আস্থা অর্জন করে তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী হয়েছেন। আর সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে তিনি বেছে নিয়েছেন একেবারে ভিন্নধর্মী পথ—মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার এক আন্তরিক প্রয়াস। সভা-মিছিল বা প্রচারের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে তিনি এখন প্রতিটি পঞ্চায়েত, প্রতিটি বুথ এবং প্রতিটি পরিবারের দরজায় কড়া নাড়ছেন।
তবে শুধু প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না তিনি। এলাকার প্রবীণ ভোটারদের সামনে গিয়ে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম জানিয়ে তাঁদের আশীর্বাদ নিচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগ শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং এক ধরনের আবেগঘন সংযোগ তৈরি করছে সাধারণ মানুষের সঙ্গে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫ হাজার বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর লক্ষ্য—এই সংখ্যা এক লক্ষে পৌঁছে দেওয়া।
পরেশ রাম দাসের কথায়, “আমি সবসময় মানুষের পাশে থেকেছি। বিধায়ক থাকাকালীন দিন-রাত মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলাম। এবারও সেই বিশ্বাস নিয়েই মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি। প্রবীণ বাবা-মায়েদের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করছি, কারণ তাঁদের আশীর্বাদই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, “এক লক্ষ মানুষের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা আমার লক্ষ্য। এটা শুধু একটা সংখ্যা নয়, এটা মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্কের প্রতীক। তাঁদের ভালোবাসা এবং আশীর্বাদ নিয়েই আমি আবার মানুষের সেবা করতে চাই।”
এই প্রচার কৌশল যে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছে, তা এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই তাঁকে ‘ঘরের ছেলে’ বলেই মনে করছেন। ঘরে ঢুকে খোঁজখবর নেওয়া, সমস্যার কথা শোনা এবং সমাধানের আশ্বাস—সব মিলিয়ে এক আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধীরা এই প্রচার পদ্ধতিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। তাঁদের দাবি, ভোটের আগে আবেগ তৈরির জন্যই এই উদ্যোগ। তবে শাসকদলের মতে, এটি কোনো কৌশল নয়, বরং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার এক আন্তরিক প্রয়াস।
পরেশ রাম দাস অবশ্য আত্মবিশ্বাসী। তাঁর দাবি, ক্যানিং পশ্চিম থেকে তিনি এক লক্ষেরও বেশি ভোটে জয়ী হবেন। শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্য নিয়েও আশাবাদী তিনি। তাঁর কথায়, “রাজ্যের ২৫০-র বেশি আসনে জোড়া ফুল ফুটবে, সর্বত্র সবুজ আবির উড়বে।”
সব মিলিয়ে, ক্যানিং পশ্চিমে এবারের নির্বাচন যে অত্যন্ত জমজমাট হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। আর এই লড়াইয়ের মাঝে পরেশ রাম দাসের ‘প্রণাম প্রচার’ যে এক নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে—তা বলাই যায়। এখন দেখার, মানুষের এই আশীর্বাদ কতটা ভোটে রূপান্তরিত হয়।














